অসুস্থতা দেখিয়ে খালেদার জামিনের সুযোগ নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

নিম্নআদালত থেকে মামলার নথি আসারপরই বেগম জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দিবেন হাইকোর্ট। জামিনের বিষয়ে এক ঘণ্টা উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান আদালত। দ্রুতই এ নথি পাওয়া যাবে প্রত্যাশা বেগম জিয়ার আইনজীবী।

যদিও অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, এতিমদের টাকা আত্মসাৎ এর মামলায় শুধুমাত্র শারীরিক কারণ দেখিয়ে জামিন পাওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে জামিন শুনানির আগে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বিশৃঙ্খলায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বৃহস্পতিবার জামিন চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন বেগম জিয়া।

রোববার দুপুর ২ টায় শুনানির কথা থাকলেও বিএনপি এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখে এজলাস ছেড়ে যান বিচারপতিরা।

দশ মিনিট পর এজলাসে বসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন আদালত। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুপুর আড়াইটায় শুরু হয় বেগম জিয়ার জামিন শুনানি।

শুনানির শুরুতে লঘুদণ্ড, বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে জামিন চান বেগম জিয়ার আইনজীবীরা। জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও দুদক আইনজীবী। একঘণ্টা শুনানি শেষে, বিচারিক আদালতের নথি দেখে জামিন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার কথা জানান আদালত।

দুদক আইনজীবী বলেন, ‘বেইল আবেদনে খালেদা জিয়ার স্বপক্ষে অসুস্থতার কোনো কাগজ দাখিল করা হয়নি। কাগজ দাখিল না করা হলে আমরা কিভাবে বুজবো তিনি অসুস্থ।’

দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির প্রত্যাশা করে বয়স এবং শারীরিক দিক বিবেচনায় জামিন পাওয়ার  সুযোগ নেই বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এতিমের অর্থ আত্মসাৎ, এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কিছু হতে পারে না। রাষ্ট্রের সরকার প্রধান এই দায়িত্ব কোনোভাবে এড়াতে পারেন না। এরআগে একজন সরকার প্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিলো তিনি সাড়ে ৩ বছর পর তাকে জামিন দেয়া হয়েছে।’
দ্রুত বিচারিক আদালতের নথি আসবে এবং বেগম জিয়া জামিন পাবেন এমনটাই প্রত্যাশা বেগম জিয়ার আইনজীবীর। সুতরাং আর একজন সরকার প্রধান কেনো ২ মাসের মাথায় জামিন পাবেন।’

এদিকে বিচারিক আদালতের নথি তলব চেয়ে হাইকোর্টের বৃহস্পতিবারের আদেশ পৌঁছেছে বিচারিক আদালতে। নথি উচ্চ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড হয় বেগম জিয়ার। এরপর থেকেই কারাগারে আছেন তিনি।

Leave a Reply