আইন মেনেই কাজ করার প্রতিশ্রুতি টিকটক কর্তৃপক্ষের

‘পর্নোগ্রাফি বিস্তার, টিকটক নিষিদ্ধের আর্জি’ শিরোনামে গত ৪ এপ্রিল দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্নোগ্রাফি উৎসাহিত হচ্ছে। অবিলম্বে বন্ধ করা হোক টিকটক অ্যাপ। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই মর্মে আর্জি জানিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। পাশাপাশি এই চীনা অ্যাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই অ্যাপের মাধ্যমেই দ্রুত ছড়াচ্ছে পর্নোগ্রাফি। যা সহজেই সব বয়সের মানুষের কাছে পৌঁছছে, এটি দেশের পক্ষে বিপজ্জনক।

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে টিকটক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে তাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে। ব্যাখ্যায় আইন ও নীতিমালা মেনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, টিকটক স্থানীয় আইন ও নীতিমালা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা তথ্য প্রযুক্তি আইন (ইন্টার মিডিয়া রিগাইডলাইনস), ২০১১ পূর্ণাঙ্গভাবে সমর্থন করি। বর্তমানে আমরা মাদ্রাজের উচ্চ আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশের অপেক্ষায় আছি। আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে আমরা বিষয়টি যাচাই করে দেখব এবং প্রয়োজনীয় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, টিকটক নিরাপদ ও ইতিবাচক ইন-অ্যাপ এনভায়রনমেন্ট বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। ব্যবহারকারীদের যেকোন ধরনের অপব্যবহার থেকে সুরক্ষিত রাখতে, তাদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য আমাদের রয়েছে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে রয়েছে সহজ রিপোর্টিং ব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারী ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে আমাদের টিকটক ব্যবহারের শর্ত এবং সামগ্রিক কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন করে এমন সব কন্টেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ করে দেয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য একজন চিফ নোডাল অফিসার নিযুক্ত করার কথাও জানায় টিকটক কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, টিকটক এই অ্যাপটি প্রায় ১ কোটি ভারতীয় বর্তমানে ব্যবহার করছেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে অপরিচিত কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে। পরে পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে তাকে বিপথে চালিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে ১৭ বছরের এক কিশোরের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে এইভাবে। আদালতেও এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এরপরই মাদ্রাজ হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ, এই চীনা অ্যাপটিকে ডাউনলোডের নিয়ম বন্ধ করুক কেন্দ্র।