এবার অ্যাপে ঝড়-বৃষ্টির খবর আগেভাগেই পাবে কৃষকরা

এখন থেকে কৃষকরাও ঝড়-বৃষ্টির খবর আগেভাগেই পাবে। তাও আবার সাত থেকে ১৫ দিন আগে। এতে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে পারবে সারা দেশের কৃষকরা। কৃষকদের কাছে এই আগাম খবর পৌঁছানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি (বামিস) পোর্টাল এবং অ্যাপ। কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্পের আওতায় অ্যাপটি তৈরি করে সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

গত শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় অ্যাপটির উদ্বোধন করেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ড. মো. আব্দুল মুঈদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বিশেষজ্ঞ পুলের সদস্য ও ডিএইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান প্রমুখ।

মোবাইল ফোনে অ্যাপটি সংগ্রহ করে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই তথ্য পাওয়া যাবে। মোবাইল ফোনে অ্যাপটি পেতে বাংলায় বামিস পোর্টাল বা ইংরেজিতে BAMIS Portal লিখে গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাবে। অ্যাপটির মধ্যে মানচিত্র, ছক ও লেখচিত্রের মাধ্যমে তথ্য প্রদান করা হবে। এই অ্যাপ ঘেঁটে দেখা গেছে, ব্যবহারকারী পরবর্তী সাত থেকে ১৫ দিনের আর্দ্রতা সম্পর্কে জানতে পারবে। এতে কোন জেলায় কত তাপমাত্রা থাকবে, সাত দিনের মধ্যে কোথায় বৃষ্টিপাত, বাতাসের গতি ও দিক, বিভিন্ন ফসলের তথ্য, কখন কোন ফসল চাষ করা যাবে বা তুলতে হবে—এসব বিষয়ে জানা যাবে।

জানা গেছে, বন্যা, খরা ও জলোচ্ছ্বাসে আগাম সতর্কীকরণ বার্তায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক তথ্য কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই অ্যাপ ভূমিকা রাখবে। নির্দিষ্ট তথ্য পেলে কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পারবে।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭০, ১৯৮৬, ১৯৯১, ২০০৭, ২০০৯ সালসহ এখন প্রায় প্রতিবছরই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশে আঘাত হানছে। দিন দিন আবহাওয়ার আওতা বাড়ছে। এ ধরনের প্রাকৃতিক পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে কৃষি; যে কারণে সক্ষমতা বাড়িয়ে এ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে কৃষিসেবা পৌঁছানোর জন্যই এই চেষ্টা।