এমবাপে ও হ্যাজার্ডকে কিনবেন জিদান!

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ পদে আবার ফিরে এসেছেন জিনেদিন জিদান। গত সোমবার সান্তিয়াগো সোলারিকে বরখাস্ত করে নতুন কোচ হিসেবে জিদানকে নিয়োগ দিয়েছে রিয়াল। আর দায়িত্ব নিয়েই ফরাসি কোচ হাত দিয়েছেন দল গঠনের কাজে। প্রথম পদক্ষেপেই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলোর জুভেন্টাসে যোগদানের পথ রুদ্ধ করেছেন। দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে জিদান হাত বাড়িয়েছেন নতুন শিকারের দিকে। তার প্রথম টার্গেট কিলিয়ান এমবাপে ও এডেন হ্যাজার্ড!

গণমাধ্যমে গুঞ্জন অন্তত সে রকমই। পিএসজির ফরাসি বিস্ময়বালক এমবাপে ও চেলসির বেলজিয়ান তারকা হ্যাজার্ডকে কেনার প্রাথমিক পরিকল্পনাই নাকি করে ফেলেছেন তিনি। রিয়াল এমবাপে ও হ্যাজার্ডের পিছু নিয়েছে অনেক আগেই। পছন্দের হ্যাজার্ডকে তো রিয়ালে আনার প্রথম পদক্ষেপটা নিয়েছিলেন জিদানই।

শৈশবের হিরো জিদানের আহ্বানে সারা দিয়ে হ্যাজার্ডও রিয়ালে যোগ দিতে এক পায়ে খাড়া ছিলেন। কিন্তু গত মৌসুমে জিদান নিজেই রিয়াল ছেড়ে যাওয়ায় চুক্তিটা শেষ পর্যন্ত হয়নি। তবে পুনরায় কোচ পদে ফিরেই জিদান আবার সেই হ্যাজার্ডের দিকে নজর দিয়েছেন। অবশ্য তিনি আসার আগেই ২৮ বছর বয়সী হ্যাজার্ডের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে অনেকটা দূর এগিয়ে গেছে রিয়াল।

হ্যাজার্ড এরই মধ্যে নাকি রিয়ালকে পাকা কথা দিয়ে ফেলেছেন। সেটা হলে জিদানের জন্য কাজটা অনেকটাই সহজ হবে। তবে এই বেলজিয়ানের পাশাপাশি স্বদেশি এমবাপেকেও এক নম্বর লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছেন জিদান। রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের প্রথম পছন্দ অবশ্য পিএসজিরই ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। কিন্তু জিদান নেইমারকে বাদ দিয়ে এক নম্বর টার্গেট করলেন এমবাপেকে!

এখানে সভাপতি পেরেজের সঙ্গে কোচ জিদানের একটা মনোযুদ্ধের গন্ধ মিলছে! কিন্তু নিশ্চিত থাকুন, দুজনের যুদ্ধটা হবে না। আর হলেও যুদ্ধে জয়ী হবেন জিদানই। কারণ, তিনি দল গঠনে ‘সর্বময় ক্ষমতা’র অধিকার নিশ্চিত করেই দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়ালের কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন।

গত মৌসুমে এই দ্বন্দ্বের কারণেই অভিমান করে রিয়ালের কোচের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন জিদান। দলের অবিশ্বাস্য সাফল্য ধরে রাখার আশায় তিনি চেয়েছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে দল গঠন করতে। কিন্তু সভাপতি পেরেজের কাছে রোনালদোর প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। তাই তিনি রোনালদোকে বিক্রি করে গ্যারেথ বেলকে কেন্দ্র করে দল গঠনে মত দেন। তাই অভিমান করে চাকরি ছেড়ে দেন জিদান।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিদানই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছেন। রোনালদোকে ছেড়ে দিয়ে পেরেজের পরিকল্পনামতো বেলকে কেন্দ্র করে দল গঠন করার চড়া মূল্যই দিতে হয়েছে রিয়ালকে। মার্চের প্রথম সপ্তাহেই মৌসুমের তিনটি টুর্নামেন্টের শিরোপা স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এক সপ্তাহে নিজেদের মাঠে টানা তিন হারে তিনটি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া, ১১৭ বছরের ক্লাব ইতিহাসে এমন চরম বিপর্যয় আর কখনো দেখেনি রিয়াল।

ঐতিহাসিক এই বিপর্যয় সভাপতি পেরেজকে তার ভুলটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সেই ভুল শোধরাতে তাই আবার জিদানেরই শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। সুযোগ বুঝে জিদানও দায়িত্ব নেওয়ার আগে জুড়ে দেন শর্ত, তাকে দল গঠনে ‘সর্বময় ক্ষমতা’ দিতে হবে। পেরেজ তা দিয়েই জিদানের সঙ্গে চুক্তি করেছেন।

মানে দলের শক্তি বৃদ্ধির জন্য নতুন কাকে কাকে কিনবেন আর দলের কাকে কাকে ছেড়ে দেবেন—সেই সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ জিদান। সভাপতি পেরেজসহ রিয়ালের পরিচালনা পর্ষদ গোপনে জিদানের সেই পছন্দ পূরণে কাজ করবেন! সুযোগ বুঝে আদায় করে নেওয়ার চুক্তির এই ক্ষমতা বলেই নেইমারকে বাদ দিয়ে এমবাপেকে এক নম্বর টার্গেট বানিয়েছেন জিদান।

এই ইস্যুতে জিদান পাশে পাচ্ছেন রিয়ালের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠীকেও। কারণ, স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কার এক ভোট জরিপে বেরিয়ে এসেছে, রিয়ালের ৭৩ শতাংশ সমর্থক রোনালদোর যোগ্য বিকল্প হিসেবে এমবাপেকে দেখতে চান। সুতরাং পছন্দ মিলে যাওয়ায় রিয়ালের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী নিশ্চিতভাবেই কোচ জিদানকে সমর্থন করবেন!

তা না হয় করল! কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোচ জিদানের এই চাওয়া কি পূরণ করতে পারবে রিয়াল? পিএসজি যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ২০ বছর বয়সী এমবাপেকে কিছুতেই বিক্রি করবে না তারা।