কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। নানা অজুহাতে দাম বাড়ালেও আমদানি পেয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে সব ধরণের পেঁয়াজের দর কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। তবে গত এক মাসে পেঁয়াজের দর দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এ দর কমতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

তারা বলেন, মৌসুমের দেশি নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে আগের দরের চেয়েও কমে আসবে দাম।

শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে দাম কমে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। আর ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯৫ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হয়।

দেশের বাজারে গত সেপ্টেম্বরে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে ছিল। ওই সময়ে আমদানির প্রধান বাজার ভারতে পেঁয়াজের দর বৃদ্ধি পায়। তখন রাতারাতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের দর বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। কয়েক দফায় স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দর দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, শেষ মৌসুমে পেয়াজের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলেও তা স্থায়ী হয়নি। সব মোকামের ব্যবসায়ীরা নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ ওঠার আগে মজুদ পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছেন। আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহও বাড়ছে। এতে বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের বিক্রেতা মো. মামুন দাবি করেন, বেশি দামে কেনা পেঁয়াজ এখনও অনেক দোকানির বিক্রি শেষ হয়নি। এই পেঁয়াজ বিক্রি শেষ হলে দু’চারদিনের মধ্যে আরও কম দামে বিক্রি হবে।

রাজধানীর বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সবজির দামও কমতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিন ধরে বাজারে আসেছে নতুন আলু। নতুন সবজি সব সময় বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। এবার তা ব্যতিক্রম হয়নি। গত মঙ্গলবার প্রতি কেজি নতুন আলু ১০০ টাকা কেজি ছিল। শুক্রবার তা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। তবে পুরাতন আলু গত কয়েক মাস ধরে ২০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। কেজিতে ২০ টাকা কমে শিম ১২০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়। কেজিতে ১০ টাকা কমে বেগুন মিলছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। এ ছাড়া, ঝিঙ্গা চিচিঙ্গা, করলা, পটল, শসাসহ বেশিরভাগ সবজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেপের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং পালং শাক ও লালশাকের আটি ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

আমন মৌসুম আসার আগে কমতে শুরু করেছে চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দু’এক টাকা কমে মোটা স্বর্ণা চাল ৪৪ টাকা, পারিজা চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, আমদানি করা ভারতীয় বিআর-২৮ চাল ৪৮ টাকা, দেশি বিআর-২৮ চাল ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৬৩ থেকে ৬৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য পণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *