কে হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি

দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পর কে হবেন নতুন প্রধান বিচারপতি তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা।

তাঁকেই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে নাকি অন্য কেউ দায়িত্ব পাবেন তা নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতির ওপর।

আপিল বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করার প্রথা যেমন রয়েছে তেমনি তাঁকে ডিঙিয়ে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়ারও একাধিক নজির আছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কালের কণ্ঠকে বলেছেন, প্রধান বিচারপতি কে হবেন তা নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের ওপর। রাষ্ট্রপতি কাকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন তা তিনিই জানেন। কারণ সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতির।

সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একক ক্ষমতা দেওয়া আছে। তবে সংবিধানে যাই থাকুক না কেন দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। সরকার যাঁকে চায় তাঁকেই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।

জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাবেন।

বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনিই প্রধান বিচারপতি থাকছেন। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, পদত্যাগপত্র গ্রহণের আগে বিচারপতি এস কে সিনহাই প্রধান বিচারপতি। যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন তবেই কেবল নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি। এ কারণে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত পর্যন্ত্ত অপেক্ষা করতে হবে।

২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর দেশের ১৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসরে যান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিন। এরপর আপিল বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করীমকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামকে দেশের ১৭তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম ৪৭ দিন দায়িত্ব পালন করার পর ২০১০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান। এরপর ১৮তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করীমকে। তিনি অবসরে যাওয়ার পর আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এম এ মতিন ও বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমানকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়।

এরও আগে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি এম এম রুহুল আমিনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছিল। তারও আগে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি মো. রুহুল আমিন ও বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি কে এম হাসান ও বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনকে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি মো. রুহুল আমিনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন অবসরে যাওয়ার পর বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার কথা উঠেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সিনিয়রদের ডিঙ্গিয়ে অপেক্ষাকৃত জুনিয়রকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেননি।

এ ছাড়া সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে কোনো বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন। ’ প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করলে বা কোনো কারণে অপসারিত হলে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন।

বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগের পর এখন আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। তাঁরা হলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা অবসরে যাবেন ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাবেন ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দায় ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares