খালেদাকে বন্দি রেখে ভোট হবে না: ফখরুল

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন করতে দেয়া হবে না বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবিতে সোমবার (৯ জুলাই) ৭ ঘণ্টার প্রতীক অনশন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার সময় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করার প্রতিবাদে এবং তার মুক্তির দাবিতে সোমবার ঢাকার গুলিস্থানের মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির ‘প্রতীক’ অনশনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন নেতা বক্তব্য রাখেন।

নেতারা তাদের বক্তব্যে খালেদাকে বন্দি রেখে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গুলিস্থানে কাজী বশির মিলনায়তনে সকাল থেকে কর্মসূচি শুরুর পর বিকেলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী ফলের রস খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান।

ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে এই অনশন কর্মসূচিতে যেসব বক্তা বক্তব্য রেখেছেন, তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে এসেছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এদেশে কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না। এই অনশন কর্মসূচি থেকে আমরা দাবি করছি, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবি আবার করছি যে, এখানে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনরায় গঠন করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তবেই নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এদেশে নির্বাচন হবে, অন্যথায় নির্বাচন হবে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার একটাই ষড়যন্ত্র করছে। সেটা হচ্ছে দেশনেত্রীকে ছাড়া, বিএনপিকে ছাড়া, ২০ দলকে ছাড়া তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসন আবার পুনরাবৃত্তি করতে চায়।’

‘আমরা বলতে চাই, ২০১৪ সালের সেই ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের জনগণ আরেকবার বাস্তবায়ন হতে দেবে না। তাই রাস্তায় আন্দোলন করেই গণতন্ত্রের মাতাকে মুক্ত করতে হবে, মুক্ত দেশনেত্রীকে নিয়েই আমরা নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে নির্বাচনে যাব।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে যার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। যদি আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হয়, তার একমাত্র বিকল্প হল রাজপথ। এবার প্রস্তুতি নেন, কর্মসূচি দেওয়া হবে, সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘পৃথিবীর বহু রাষ্ট্রনায়কের এরকম জেল হয়েছে, আবার মুক্ত হয়েছে, জামিনও হয়েছে, আবার অনেকে সংগ্রামের মাধ্যমে মুক্ত হয়েছে। আজকে দেশনেত্রীকে তিলে তিলে হত্যার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি।’

প্রতীক অনশনে উপস্থিত ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নুল আবদিন ফারুক, কবির মুরাদ, আতাউর রহসান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আশারফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম আলীম, কাজী আবুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করতে এসেছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বিএনপি মহাসচিবের কাছে কিছু সময় বসলেও বক্তব্য দেননি।

একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর মজিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা সৈয়দ মজিবুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *