খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ আক্রোশ: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ আক্রোশের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

 

তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, এ দেশে আগামী নির্বাচন সেভাবেই হবে এবং তাতে সেনাবাহিনী আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ভূমিকা পালন করতে পারে।

রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে দেয়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন।

বিএনপির সমাবেশ শেষে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাব দেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এককথায় যদি বলতে হয়, খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ আক্রোশের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে খালেদা জিয়ার নির্বাচন দাবির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে, পৃথিবীর অন্য দেশগুলোয় যেভাবে হয় সেভাবে। সে সময় যে সরকার থাকবে, তারা ইসিকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে সহায়তা দেবে।

নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন চেয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগও নির্বাচনে সেনাবাহিনী চায়। তবে সেটা হতে হবে আইন অনুযায়ী।

খালেদা জিয়া ১০ বছরের মতো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন করেন, তিনি (খালেদা জিয়া) সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে কয়টা নির্বাচন করেছেন?

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার বন্ধে বিএনপির চেয়ারপারসনের আহ্বানের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইভিএম সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। কিন্তু খালেদা জিয়া এটা চান না। তিনি ২০০১ সালের মতো মেকানাইজড (পাতানো) নির্বাচন চান। তার মন্তব্য ইতিবাচকভাবে দেখছি। তবে এটা ইসির ব্যাপার।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়া জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি করেছেন, পুড়িয়ে মানুষ মেরেছেন। তার কৃতকর্মের জন্য তাকেই জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

খালেদা জিয়া এখন ক্ষমার নাটক করছেন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি যে মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন তা আওয়ামী লীগ দেয়নি। তারই তৈরি করা লোকজন (১/১১ সরকার) মামলা দিয়েছে। খালেদা জিয়া জানেন, হয়তো এসব মামলায় তার দণ্ড হয়ে যেতে পারে। এ জন্য তিনি ক্ষমার নাটক সাজিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জুলুম আওয়ামী লীগ করেনি, জুলুম করেছে বিএনপি। এটা দেশের জনগণ জানে। আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্যাতিত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর রক্তের দাগ খালেদা জিয়ার হাতে। জুলুম তিনি করেছেন, অথচ তিনি আজও জাতির কাছে ক্ষমা চাননি।

খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া হাওয়া ভবন গড়ে লুটপাট চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপি প্রধানের ‘সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়’

বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের কেউ প্রধান বিচারপতির মতো একজনকে পদত্যাগ করাবে, এটা মনে করা হাস্যকর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এসএম কামাল প্রমুখ।

খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে বাধা কে কাকে দিচ্ছে : এর আগে রোববার দুপুরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৫তম সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বিএনপির জনসভামুখী নেতাকর্মীদের বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ যখন উঠেছে, এটা খতিয়ে দেখা হবে। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে বাধাটা কোথায় কে কাকে দিচ্ছে। বিএনপি তো নিজেরাই নিজেদের বাধা দেয়। অতীতে এ ধরনের অভিযোগের খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে এর বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। আসলে কথায় কথায় নালিশ করা বিএনপির পুরনো অভ্যাস।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৮ নভেম্বর ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতির জন্য আমরা সমাবেশ দিয়েছি শনিবার দেখে। এ ধরনের সমাবেশে জনভোগান্তি হবেই। তবে এটাকে সহনীয় মাত্রায় রাখা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। কিন্তু আজ তো (রোববার) সহনীয় মাত্রায় নেই। সহনশীলতার মাত্রা অতিক্রম করে এখন রাস্তা অচল হয়ে গেছে। খালেদা জিয়ার সংবর্ধনার দিনও একই অবস্থা হয়েছিল। আমরা শেখ হাসিনাকে যে সংবর্ধনা দিয়েছিলাম সেখানে আমাদের মহিলা উপস্থিতিও তাদের সম্মিলিত উপস্থিতির চেয়ে বেশি ছিল। তারপরও আমরা ছিলাম সুশৃঙ্খল পরিবেশে, নেতাকর্মীরা ছিল ফুটপাতে। যারা আজ রাস্তা অচল করে সভা-সমাবেশ করে, তারা ক্ষমতায় গেলে তো দেশ অচল করবে।

ঢাকায় প্রবেশের মুখে রাস্তায় যানবহন সংকট এবং দূরপাল্লার পরিবহন দেখা না যাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দেখিয়ে বলেন, এটা আমি জানি না। উনি জানেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares