‘গায়েবি মামলার’ বিরুদ্ধে রিট করবে বিএনপি

বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে হওয়া ‘গায়েবি মামলার’ বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করবে দলটি। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একথা জানান।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‌‘বিএনপি এসব ‘গায়েবি মামলাকে’ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর জন্য যে কোন একটা মামলাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করার চিন্তা করছি। যে অফিসার বাদি হয়ে এই মামলা (গায়েবি) দায়ের করেছেন তার বিরুদ্ধে কেনো সরকার বিভাগীয় পদক্ষেপ নেবে না, তার বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না, তার বিরুদ্ধে কেনো শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে না। এই আলোকে রিট পিটিশন করার চিন্তা করছি।’

হাতিরঝিল মামলার মতো যে কোনো একটা মামলা নিয়ে বিএনপি রিট করার চিন্তা করছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি দাবি করে, গত ১০ বছরে সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার ৩৪০টি মামলায় ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ৪ হাজার ১৪৯টি মামলায় জ্ঞাত এবং অজ্ঞাত ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গায়েবি মামলাগুলো হাস্যকর। এই কাজগুলোর সঙ্গে যারা জড়িত, যারা এই মামলাগুলো করছেন ভবিষ্যতে যদি এটাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা যায় তারা সবাই বিপদে পড়বেন।’

মামলার পরিসংখ্যান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা এসব মামলায় ৭৫ হাজার ৯২৫ জনকে জেল হাজতে নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৫১২ জন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৮২ জন, গুম হয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন, যাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪২৩ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। একই সময়ের মধ্যে ১০ হাজার ১২৬ জন নেতাকর্মীকে আহত ও পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে করা গায়েবি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৭৪ জন। যাদের মধ্যে ২৪৭ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এসব গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন থেকে বিএনপিকে দূরে রাখার জন্য সরকার যতো ধরনের কূটকৌশল আছে তা প্রয়োগ করছে। দলের সিনিয়র নেতাদের নামে যেসব মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে তা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছে সরকার।’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলতে চাই, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে এবং সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বিএনপি যে ৭ দফা দিয়েছে সেই দাবিগুলো মেনে নিলে তাহলেই কেবল নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে তার আগে নয়।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও এমন দৃশ্য নেই যে নির্বাচনের আগে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য সরকার যা যা করা দরকার তাই তাই করছে। সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এই কাজগুলো করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *