গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দূর করার উপায়

কারোও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে তার যেকোনো খাবার থেকেই গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। সারাদিন কাজের চাপে অথবা ঠিকমত খাবার না খাওয়ার কারণেও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। পেটে গ্যাস হওয়া হজম প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। এটা ছাড়া ঠিকমতো হজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। গ্যাস্ট্রিক সমস্যা তখনই হয় যখন এই গ্যাস অতিরিক্ত হারে তৈরি হতে থাকে এবং সময়মতো বের হতে পারে না।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

দারুচিনি
এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে এক চামচ দারুচিনির গুঁড়া ভালো করে গুলিয়ে পান করা যেতে পারে। সঙ্গে মধুও মেশানো যেতে পারে। অথবা এক গ্লাস গরম পানিতে এক চামচ দারচিনির গুঁড়া ভালো করে মিশিয়ে ২-৩ মিনিট পরে পান করা যেতে পারে।

ঘোল
ঘোল পান করলে গ্যাস্ট্রিক কমে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ঘোল পান করা যেতে পারে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

আদা
বদ হজম ও ক্ষুধামন্দায় আদা কিংবা আদার গুঁড়া খাওয়া যেতে পারে। প্রত্যেক বেলার প্রধান খাবার গ্রহণের পরে তাজা ছোট এক টুকরা আদা চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। অথবা আদা চা পান করা যেতে পারে। কয়েক টুকরা আদা পানির মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে আদা চা তৈরি করা হয়। দিনে ২-৩ বার আদা চা খেলে গ্যাস কমে যায়।

বাদাম
প্রতিদিন কয়েকটি বাদাম খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হবে না।

বেকিং সোডা ও লেবু
একটি গ্লাসে অল্প পরিমাণ তাজা লেবুর রসের মধ্যে কিছু পরিমাণ বেকিং সোডা ঢেলে দিতে হবে। মিশ্রণটি জমে গেলে তার উপর পানি এবং আর একটু বেকিং সোডা মিশিয়ে ভালোভাবে গুলিয়ে নিতে হবে। আস্তে আস্তে মিশ্রণটি পান করতে হবে। তাছাড়া খালি পেটে এক গ্লাস পানির মধ্যে সামান্য পরিমাণ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যায়।

রসুন
রসুনের স্যুপ খেলে গ্যাস্ট্রিক কমে যায় এবং হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। কিছু পরিমাণ রসুন পিষে পানিতে মিশিয়ে কয়েক মিনিট ধরে ফোটাতে হবে। এর সঙ্গে গোলমরিচ এবং জিরা মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা হলে মিশ্রণটি পান করতে হবে। এভাবে দিনে দুই থেকে তিন বার ব্যবহার করতে থাকলে গ্যাস্ট্রিক কমে আসবে।

মৌরি
মৌরি চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। অথবা গরম পানির মধ্যে কিছু পরিমাণ মৌরি মিশিয়ে পাঁচ মিনিট ধরে ঠাণ্ডা করে পাঁচ মিনিট পরে পান করতে হবে। এতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

পানি
প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পানে অনেক সমস্যা থেকেই মুক্তি পাওয়া যাবে। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে দ্রুত খাবার হজমে সাহায্য করে পানি। এতে কমে যায় অ্যাসিডিটি।

বেকিং সোডা
বেকিং সোডা পেটের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে তাৎক্ষণিক রেহাই পেতে সাহায্য করে। এক গ্লাস পানিতে ১/৪ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

হলুদের পাতা
হলুদের পাতা কুচি করে কেটে প্রতিদিন দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পান করতে হবে। এতে করে পেটে ব্যথা এবং গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে।  দুই কাপ পানি পেয়ারা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি ১ কাপ পরিমাণে হলে ছেঁকে পান করুন। এতেও বেশ ভালো উপকার হবে।

আনারস
আনারস খেলে অ্যাসিডিটি কমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares