গ্রিন লাইনের আচরণে হাইকোর্টের অসন্তুষ্টি

গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা অনেক নমনীয়ভাবে কথা বলেছি। যারা ব্যবসা করে তাদের মানবিক মূল্যবোধ থাকা উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের আচরণ ভালো লাগেনি। আমাদের নমনীয়তাকে দুর্বলতা ভাববেন না। আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না।’

আদালতে গ্রিনলাইনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. ওজিউল্লাহ এবং পা হারানো রাসেল সরকারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শামসুল হক রেজা।

এদিন প্রথমেই গ্রিনলাইন পরিবহনের আইনজীবী অজি উল্লাহর কাছে আদালত জানতে চান- রাসেলকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে কি না?

আইনজীবী অজি উল্লাহ তখন বলেন, ‘গত ২০ তারিখ থেকে গ্রিনলাইন পরিবহন আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। তাই আমি নিজেকে এই মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি তাদের আচরণে খুবই অখুশি।’

এসময় রাসেল সরকারের আইনজীবী শামসুল হক রেজা বলেন, ‘আমাদের সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ করছে না গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ। রাসেলকে চিকিৎসা খরচ বাবদ তিন লাখ টাকা এবং পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়ার পর আর কোনো খরচও দিচ্ছে না। এজন্য হাসপাতাল থেকে বাসায় এসে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে তাকে।’

এরপর আদালত বলেন, যারা ব্যবসা করে তাদের মানবিক মূল্যবোধ থাকা উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের আচরণ ভালো লাগেনি। আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। তারপরও তাদের (গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ) অনুপস্থিতিতে আমরা আজ আদেশ দিতে চাই না। প্রয়োজনে রুল শুনানির পর যা করার দরকার, তাই করবো।’ পরে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ জুন দিন রেখে শুনানি স্থগিত করে আদালত।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ এপ্রিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয় প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে। তাকে বাঁচাতে একটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। এরপর রাসেল সরকারের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে সাবেক সাংসদ উম্মে কুলসুমের করা এক রিট আবেদনে চিকিৎসা খরচ বাদেও ৫০ লাখ টাকা দিতে গ্রিনলাইনকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। পরে আপিল বিভাগেও ওই আদেশ বহাল থাকে। এরপর গত ১০ এপ্রিল রাসেল সরকারকে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ বাকি ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য এক মাস সময় পায়।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও আর কোনো অর্থ তারা পরিশোধ না করায় গত ১৫ মে আদালত আরও সাত দিন সময় দিয়ে ওই সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়।