চাকরিতে কোটা নিয়ে এত ক্ষোভের কারণ কী?

বাংলাদেশে চাকরিতে কোটা কমানোর দাবিতে ঢাকার শাহবাগসহ দেশের অনেক এলাকায় শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে রোববার। তাদের দাবি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)সহ সকল সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কার করতে হবে।

অন্যদিকে সরকারি চাকরির বয়স-সীমা ৫ বছর বাড়ানোর দাবিতে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাধারণ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে অনশন করছেন একদল।

এর আগে বাংলাদেশে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারী চাকরি প্রত্যাশীদেরও নানা ইস্যুতে রাস্তায় নামতে দেখা গেছে।

এবার আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কার করে তা কমানো দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ আসনে কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে চাকরি প্রত্যাশীদের নানা ধরনের দাবি নিয়ে এভাবে বারবার রাস্তায় নামতে হচ্ছে কেন?

তাদের ক্ষোভের কারণ চাকরির অভাব নাকি সরকারী চাকরি-কেন্দ্রিক মানসিকতা?

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের অনারারী ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও শিক্ষিতদের মধ্যে চাকরির সম্ভাবনা সংকুচিত হচ্ছে। যে হারে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে তার থেকেও বেশি হারে চাকরি প্রার্থী ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে বের হচ্ছে। চাকরির বাজারে প্রতিবছর যত ছেলে-মেয়ে আসছে সে তুলনায় কর্মসংস্থান তৈরি করা যাচ্ছে না”।

মি: রহমান বলেন, “এ কারণে আমরা দেখছি একটা চাপ, অনেক ছেলে মেয়ে চাকরির জন্য রাস্তায় নামছেন”।

এখানে চাকরির অভাবের সমস্যা নাকি সরকারি চাকরিই করতে হবে এমন মানসিকতা দায়ী?

গবেষক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এখানে দুটি বিষয় কাজ করে। সরকারি চাকরির পরীক্ষা যেহেতু দুই-তিন বছর পর পর হয় ফলে সেখানে একটা চাপ পড়ে। আবার বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির জন্য যে বিজ্ঞাপন হচ্ছে সেখানেও দেখছি প্রতিটি পদের জন্য অনেক বেশি প্রতিযোগী বাড়ছে। সেটার একটা চাপ সরকারি খাতের ওপর বাড়ছে। সেখানেও কর্মসংস্থানের জন্য যখন বিজ্ঞাপন আসছে সেখানেও ব্যাপক চাপ বাড়ছে”।

বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের চাকরি ক্ষেত্রের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে বিদেশী নাগরিকদের হাতে, বলছিলেন মিস্টার রহমান।

তার ভাষায়,”উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বের হয়ে আসছে অনেক ছেলে-মেয়ে। কিন্তু তাদের অনেকেই চাকরির বাজারে যখন আসছে তখন খুব প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। অথবা যে ধরনের চাকরির যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ছে সে ধরনের তারা হয়ে উঠতে পারছেনা। এজন্য আমরা দেখছি বাংলাদেশের বাইরে থেকে এসে অনেকে কাজ করছে কিন্তু আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা সেসব জায়গায় যেতে পারছেনা”।

তিনি মনে করেন, সবাই যে সরকারি চাকরি করতে চান সেটাও না। কিন্তু ব্যক্তি খাতে নিজ উদ্যোক্তা হওয়ার যে চেষ্টা বা সুযোগের সম্ভাবনাও কম।

শিক্ষিত বেকারদের জন্য সংকট আরও বেশি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের যারা স্বল্প-শিক্ষিত তারা কিন্তু দেশের বাইরেও কর্মসংস্থানের জন্য যেতে পারছেন। কিন্তু যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন তাদের দেশের ভেতরেই কর্মসংস্থান খুঁজতে হচ্ছে। আবার চাকরির ক্ষেত্রে চাহিদার যে দিকটি তার সাথে তাদের প্রস্তুতিও খাপ খাচ্ছেনা”।

বিবিসি  বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *