চিকিৎসকের আত্মহত্যার ঘটনায় স্ত্রী রিমান্ডে

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদের আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার মামলায় তাঁর স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ সোমবার দুপুরের দিকে মহানগর হাকিম মো. আল ইমরান খান শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কাজী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চিকিৎসক তানজিলার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে চান্দগাঁও থানা-পুলিশ। অন্যদিকে, তানজিলার পক্ষে তাঁর জামিনের জন্যও আদালতে আবেদনও করা হয়। শুনানি নিয়ে তানজিলার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আর তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি বাসায় মোস্তফা মোরশেদ ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শিরায় বিষপ্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন।

তার আগে স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ঘটনার দিন রাতে চিকিৎসক দম্পতির মধে৵ কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তানজিলা।

পরে স্ত্রীর সমালোচনা করে স্বামী মোস্তফা মোরশেদ ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে তো ভালোবাসায় চিটিংয়ের শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম, আর আমি চিরশান্তির পথ বেছে নিলাম।’

বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরের নন্দনকানন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তানজিলাকে আটক করে।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মোস্তফা মোরশেদের স্ত্রী-শ্যালিকা-দুই বন্ধুসহ ছয়জনকে আসামি করে শুক্রবার বিকেলে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন চিকিৎসকের মা জোবেদা খানম।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা মানসিক যন্ত্রণা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করায় আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে মৃত্যুর মুখে পড়েন মোস্তফা মোরশেদ। ২০০৯ সালে তানজিলার সঙ্গে মোস্তফার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ২০১৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে আসা যাওয়ার মধে৵ থাকেন তানজিলা। কিন্তু বিয়ের আগে ও পরে অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। মোস্তফা বিষয়টি জানার পর তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে জানান। তবে তাঁরা শোধরানোর উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো মোস্তফাকে শাসাতে থাকেন। তানজিলার বোন সানজিলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নানাভাবে মোস্তফাকে হুমকি দিয়ে মানসিক যন্ত্রণা দিতে থাকেন।