চিকিৎসা নিচ্ছেন না অনশনে অসুস্থ শিক্ষকরা

নন-এমপিও শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত টানা ১২ দিনের অনশনে অসুস্থ হয়েছেন দুই শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারি।

অসুস্থরা হাসপাতালে যাচ্ছেন না এবং স্যালাইন নিচ্ছেন না। গত ২৩ জুন থেকে সারাদেশে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পাঠদান বন্ধ কর্মসূচি’ও অব্যাহত রয়েছে।

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে গত ২৫ জুন অনশন শুরু হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কের উল্টোদিকে ‘নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারি ফেডারেশনে’র ব্যানার নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

একই সঙ্গে শুক্রবার শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচির ২৭তম দিন পার হয়। এদিন কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের চেয়ারম্যান জালালউদ্দীন মজুমদার প্রমুখ।

গত ১০ জুন থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। এর আগে একই দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচিতে নামে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনশন করার পর প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা অনশন ভঙ্গ করে ফিরে যান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা তখন তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিলে শিক্ষক-কর্মচারিরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে রাজপথ ছেড়ে ক্লাসে ফিরে যান। তাদের বিষয়টি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও বাজেটে তা উল্লেখ না করে তাদের গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থেকে অনশন চালিয়ে যাবেন।

২০১০ সাল থেকে সব ধরনের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সারাদেশে আছে প্রায় সোয়া ৫ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারি আছেন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার।

Leave a Reply