‘জাদুকরী’ মুস্তাফিজে জয় টাইগারদের

মুস্তাফিজ কি পারবেন ম্যাচ জেতাতে? প্রশ্নটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছে বাংলাদেশের দর্শকদের। আইপিএলে শেষে বল করে মুস্তাফিজ যে হতাশ করেছেন ভক্তদের। আফগানদের বিপক্ষে ৪৮তম ওভারে বল হাতে নিয়েও দিলে ফেলেলেন ১২ রান। শেষ ওভারে মাত্র ৮ রান! আটকাতে পারবেন মুস্তাফিজ? মুস্তাফিজ পারলেন। ‘জাদুকরী’ এক ওভারে জয় এনে দিলেন দলকে। ম্যাচ শেষে কাটার মাস্টারকে ’জাদুকরই’ বলে গেলেন অধিনায়ক মাশরাফি।

মুস্তাফিজ শেষ ওভারে শুধু রান আটকালেন না। তুলে নিলেন এক উইকেট। শেষ ওভারে দিলেন মাত্র ৪ রান। তার দুই রান আবার এসেছে লেগ বাই থেকে। আর তাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আফগানদের হারিয়েছে ৩ রানে।

শেষ ওভারে ৮ রান তুলতে তাদের হাতে ছিল ৪ উইকেট। কিন্তু কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের শেষ ওভারে তারা সে রান নিতে পারেনি। বাংলাদেশ পেয়েছে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয়। বাঁচিয়ে রেখেছে ফাইনালের স্বপ্ন। বাংলাদেশের জন্য অবশ্য পাকিস্তান ম্যাচটি ফাইনালে পরিণত হয়েছে।

প্রথমে টস জিতে এ ম্যাচে ব্যাট করে বাংলাদেশ। আফগানদের সামনে ২৫০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায় মাহমুদুল্লাহরা। দলের হয়ে মাহমুদুল্লাহ ৭৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। এছাড়া ইমরুল কায়েস খেলেন হার না মানা ৭২ রানের ইনিংস। তার আগে অবশ্য বাংলাদেশ দলের শত রানের আগে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে যায়। সেখান থেকে দলকে বের করে আনেন মাহমুদুল্লাহ এবং ইমরুল কায়েস।

জবাবে ব্যাট করতে নামা আফগানদের শুরুতে ২ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। এরপর শাহজাদ এবং হাসমতউল্লাহ শাহেদি ৬৩ রানের জুটি গড়েন। শাহজাদকে ৫৩ রানে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মাহমুদুল্লাহ। এরপর আবার শাহেদি এবং আসগর আফগান দাঁড়িয়ে যান। শাহেদিকে ৭১ রানে এবং আসগর আফগানকে ৩৯ রানে ফেরান মাশরাফি। শেষ চার ওভারে জয়ের জন্য আফগানদের দরকার ছিল ৪২ রান। কিন্তু মুস্তাফিজ-সাকিবরা সে রান নিতে দেননি। শেষ ১০ বলে সাকিব-মুস্তাফিজ দারুণ বল করেছেন।

বাংলাদেশের হয়ে এ ম্যাচে ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৬২ রানে ২ উইকেট নেন মাশরাফি। এছাড়া মুস্তাফিজ ২ উইকেট এবং মাহমুদুল্লাহ একটি উইকেট নেন। আফগানিস্তানের হয়ে ১০ ওভারে ৫৪ রানে ৩ উইকেট নেন আফতাব আলম। রশিদ খান ও মুজিব উর নেন একটি করে উইকেট। ব্যাটে-বলে এবং ফিল্ডিংয়ে দারুণ পারফর্ম করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মাহমুদুল্লাহ।

Leave a Reply