জাপানে চালের পিঠা খেয়ে কেন মানুষ মারা যায়?

জাপানে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর অংশ হিসেবে যে চালের পিঠা খাওয়ার প্রথা অনেকদিনের, সেই পিঠা খেয়ে এ বছরও মারা গেছে দুইজন। আহত হয়ে সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন।

মুখরোচক এই চালের পিঠা দেখে মনে হবে না এটা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু প্রতিবছর এই পিঠা বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবছরই নতুন বছরের আগে সরকারকে পিঠা খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক বার্তা জারি করতে হয়।

কি আছে এই মোচি পিঠায়?

মোচি নামের এই ছোট গোল আকৃতির পিঠাগুলো তৈরি হয় নরম কিন্তু আঠালো এক ধরনের চাল দিয়ে। এই চাল প্রথমে ভাপে সিদ্ধ করা হয়, তারপর তা গুঁড়ো করে মেখে মণ্ড বানানো হয়। এরপর আঠালো ওই ভাতের মণ্ড থেকে গোলাকৃতি পিঠাগুলো গড়া হয় এবং সেগুলো হয় উনানে বেক করা হয় বা সিদ্ধ করা হয়।

পরিবারগুলো প্রথাগতভাবে সবজি দিয়ে তৈরি পাতলা ঝোলের মধ্যে ফেলে এই মোচিগুলো সিদ্ধ করে।

কিন্তু মোচি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে কেন?

মোচি পিঠাগুলো আঠালো এবং চিবানো কঠিন। মোচি যেহেতু মুখে পুরে চিবানোর মতো ছোট সাইজের নয়, তাই এই পিঠা গেলার আগে ভালো করে তা চিবানোর প্রয়োজন হয়। এই পিঠা চিবাতে হয় অনেকক্ষণ ধরে।

কিন্তু যারা ভালো করে চিবাতে পারে না, যেমন শিশু বা বয়স্ক মানুষ – তাদের জন্য এই পিঠা খাওয়া খুবই কঠিন। যারা চিবাতে পারে না বা না চিবিয়ে এই পিঠা গিলে খাওয়ার চেষ্টা করে, এই আঠালো মোচি তাদের গলায় আটকে যায় এবং এর ফলে তাদের দম বন্ধ হয়ে যায়।

জাপানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী নববর্ষের এই পিঠা গলায় লেগে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যাদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে ছুটতে হয়, তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ৬৫ বা তার বেশি।

নিরাপদে মোচি খাবার উপায় কি?

নিরাপদে মোচি খাবার উপায় হলো ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া। আর কারোর জন্য যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে পিঠা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে খাওয়া নিরাপদ।

প্রতিবছর ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে উৎসব পালনের আগে কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য হুঁশিয়ারি জারি করে -বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য যাতে তারা মোচি পিঠা কেটে ছোট ছোট টুকরো করে সেগুলো খায়।

তবে সতর্কবার্তা সত্ত্বেও প্রতিবছর এই রান্না করা পিঠা খেয়ে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। নিহতের সংখ্যা বিশাল না হলেও সংকাপন্ন অবস্থায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিবছর যত মানুষকে হাসপাতালে নিতে হয় তার সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *