জেরুজালেম ইস্যু, ট্রাম্পের ওপর ক্ষিপ্ত সৌদি আরব ও পাকিস্তান

রো বিশ্বকে একপাশে রেখে সৌদি আরব আর ইসরায়েলের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চলছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এই পথচলা বুঝি আর দীর্ঘ হলো না। পবিত্রভূমি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। আর এতেই তার ওপর চটেছে সৌদি আরব। প্রকাশ্যে তারা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেও ঘোষণা দিয়েছে।

ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে ইসরায়েল ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা মার্কিন নীতির উল্টো পথে হেঁটেছেন ট্রাম্প। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি এই জেরুজালেম।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে আটটি দেশ এই ইস্যুতে জরুরি সভা আহ্বান করেছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লিগ, সৌদি আরব, জর্ডান, তুরস্ক, ফ্রান্স এবং জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সতর্ক বাণী উপেক্ষা করেই জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেন ট্রাম্প। আর তার এরকম একপেশে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসী বলেছেন, তার দেশ জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রদান এবং সেখানে দেশটির দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধী। এই বিষয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে রয়েছে। খবর এএফপি’র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই স্বীকৃতি প্রদানের ঘোষণার পরপরই বুধবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই বিবৃতি দেন। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের অনুরোধ সত্ত্বেও (আল-কুদস আল-শরীফ জেরুজালেম) এর বৈধ ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে উপেক্ষা করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন এবং জেরুজালেমের অবস্থান সম্পর্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার পরিপন্থি। খাকান আরো বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধক।’ খাকান জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এএফপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares