ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আর নেই কোনো যানজট!

নতুন দুই সেতুতে উবে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট। আগে যেখানে ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের নিত্যসাথী ছিলো যানজট, সেখানে এখন স্বস্তিতেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন যাত্রীরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভীষিকাময় অংশটুকুর নাম ছিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর। দূরত্ব ৩০ কিলোমিটারের মতো। অথচ তীব্র যানজটের কারণে এই পথ কতক্ষণে পাড়ি দিতে পারবেন, তা নিয়ে চিন্তায় থাকতেন যাত্রীরা। এসবই এখন অতীত। কারণ, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর কল্যাণে এই পথ এখন পাড়ি দেওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মিনিটে! এছাড়া দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুও এই ক্ষেত্রে সহায়ক ভুমিকা রাখছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শনিবার সেতুগুলো উদ্বোধনের পর থেকে যানজটমুক্ত রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘লাইফ-লাইন’ খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। পৌনে ২ থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই কুমিল্লা থেকে ঢাকা আসা-যাওয়া করছে যানবাহনগুলো। যাত্রার সময় কমে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রামে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রেও।

শনিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দ্বিতীয় মেঘনা ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বলা হচ্ছে-এই দুই সেতু দেশের ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার। এই উপহারে বেশ স্বস্তিতেই হচ্ছে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা।

জানা যায়, সেতু দুটির উদ্বোধনের আগে মেঘনা-গোমতি সেতুতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আটকে থাকতে হতো যানবাহনকে। কিন্তু আজ দুদিন ধরে চিত্র এখন ভিন্ন। নতুন দুই সেতু খুলে দেওয়ার পর সেতুতে কোনো যানবাহন আটকে নেই। মাত্র ৫ থেকে ৬ মিনিটেই সেতু পার হয়ে যাচ্ছে চলাচলরত যানবাহনগুলো। এর ফলে যানবাহনের চালক-হেলপাররা স্বস্তিতে রয়েছে। আর যানজটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলেছে যাত্রীদেরও।

ঢাকা-কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী রয়েল পরিবহনের চালক আমির হোসেন বলেন, আমরা যানজট থেকে মুক্ত হয়েছি। এখন আর যানজটের আশঙ্কা নেই। সহজেই চলাচল করতে পারছি। নতুন দুই সেতু আমাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে। আর যাত্রীরাও বেশ খুশি।

‘যানজটের দিন শেষ। এখন সড়ক দুর্ঘটনাও কমে আসবে। দুই সেতু খুলে দেওয়ার সুফল আমরা পাচ্ছি,’ যোগ করেন ট্রাকচালক আবুল খায়ের।

এশিয়া-এয়ারকনের যাত্রী সাংবাদিক আরিফ মজুমদার বলেন, যানজট একেবারেই নেই। আজ মাত্র পৌনে ২ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এলাম। মহাসড়কে কোথাও যানজট দেখতে পাইনি।

‘যানবাহনগুলো সহজেই সেতু পার হচ্ছে। আশা করি এমন পরিবেশ সব সময় থাকবে,’ বলেন তিনি।

হাইওয়ে পুলিশের দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মহাসড়কে যানজট নেই। স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলছে। আর যানজটের আশঙ্কা নেই। ঈদে আর এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ মহাসড়ক দিয়ে দৈনিক প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। তাই যানজটও ছিল প্রকট। এ যানজট নিরসনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গোমতী নদীর উপর ১ হাজার ৪১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৯৫০ কোটি টাকা।

আর সাড়ে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদীর উপর ৯৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় মেঘনা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর ৪১তম মাসে শেষ হয় সেতু দুটির নির্মাণ কাজ। পরে গত শনিবার সেতু দুটি যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।