ঢাকা-লন্ডন রুটে বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনারের ফ্লাইট বন্ধ

পাইলট সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-লন্ডন রুটের বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা। এর মধ্যেই, গেল ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কমিয়ে ফেলা হয়েছে ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া নতুন দু’টি ফ্লাইটও। এমন সিদ্ধান্তে হতাশ লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এদিকে, অন্য বিমান দিয়ে পরিচালনা করা প্রতি ফ্লাইটে গচ্চা যাচ্ছে তিন কোটি টাকা।

অত্যাধুনিক বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার দিয়ে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-লন্ডন রুটে সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করার সিডিউল ঘোষণা করে বিমান। এরপর আধুনিক সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এতে ব্রিটেন প্রবাসীদের মাঝে সাড়াও পড়ে ব্যাপক। ২৭১ আসনের অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনারে চড়ার শখে অনেকেই টিকিট কেনেন হুমড়ি খেয়ে। তবে পাইলটের অভাবে মাত্র তিনটি ফ্লাইট অপারেট করার পরই তা বন্ধ হয়ে যায়।

ড্রিমলাইনার সার্ভিসে কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ হারুন খান বলেন, ‘পাইলটের সমস্যা আছে। ক্রু দের সমস্যা থাকে। সেক্ষেত্রে ছয় দিন সার্ভিস দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না।’

বাধ্য হয়ে সেই আগের নিয়মে সুপরিসর ৪১৯ আসনের বোয়িং-৭৭৭ দিয়েই এতদিন সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট অপারেট করে আসছিল বিমান। তবে, গেল ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সপ্তাহে সেই ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা থেকেও সরে এসেছে বিমান বাংলাদেশ। দুটি কমিয়ে আগের মতই সপ্তাহে এখন ৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই বিমান সংস্থাটি।

বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার পরিচালনা নিয়ে একই তথ্য বিমান থেকে জানানো হয়েছে লন্ডনের বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে।

ট্রাভেলস লিংক ইউকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি সানাউল্লাহ বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রু সার্টিফিকেশনের কাজ চলছে। তবে সময় লাগবে।’

তবে, বিমানের অন্যতম লাভজনক এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের এই ধরণের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রবাসী যাত্রীদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশংকা করছেন অনেকে।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট রহমত আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান মারাত্মকভাবে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। গ্রহণযোগ্যতা রাখতে হলে আরো চিন্তাভাবনা করে ফ্লাইট পরিচালনা করা উচিত।’

ফ্লাইট পরিবর্তনের কারণে ২৭১ আসনের বোয়িং ৭৮৭ এর ৬টি ফ্লাইটের যাত্রী বহন করতে হচ্ছে ৪১৯ আসনের বোয়িং ট্রিপল সেভেন উড়োজাহাজ দিয়ে। কম যাত্রীর জন্য বেশি যাত্রী ধারণ সম্পন্ন উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এভাবেই এই রুটের প্রতি ফ্লাইটে কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে বিমান বাংলাদেশকে।