‘তারেক রহমান যে ব্রিটিশ নাগরিক, সরকার তা প্রমাণ করেছে’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে যুক্তরাজ্যের নাগরিক, বাংলাদেশ সরকার তা প্রমাণ করে দিয়েছে। কেচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়েছে। তারেক রহমান ব্রিটিশ নাগরিক হিসাবে সে দেশে কোম্পানি খুলে তার পরিচালক হয়েছেন। আমি প্রমাণ করে দিয়েছি, বাংলাদেশ সরকার প্রমাণ করে দিয়েছে-তারেক রহমান বিদেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
রবিবার সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।
শাহরিয়ার আলম বলেন, লন্ডন সফরকালে আমি বলেছিলাম তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সারেন্ডার করেছেন। আমাকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি তথ্য প্রমাণ চেয়েছিল। আমার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু বাধ্য হয়েছিলাম তাদের সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে। উকিল নোটিশ দিয়ে আমাকে বলা হয়েছে, আমি যদি প্রমাণ দিতে না পারি তাহলে আমার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই উকিল নোটিশের দেড় মাস অতিক্রম হয়েছে। তাদের সেই সৎ সাহস নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ সরকারের কম্পানিজ হাউজের ওয়েবসাইটে তারেক রহমান সম্পর্কে সার্চ দিলে হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালটেন্ট লিমিটেড (ব্রিটিশ কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০৯৬৬৫৭৫০) নামের একটি নতুন চালু হওয়া কোম্পানির তথ্য পাওয়া যাবে। তারেক রহমানকে সক্রিয় এই কোম্পানির পরিচালক বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে কোম্পানিটি প্রথম গঠনকালে তার (তারেক রহমান) জাতীয়তা বলা হয়েছে ব্রিটিশ। এর চার মাস পরে পরিবর্তন করে বলা হয়েছে বাংলাদেশি। এই থেকে আমরা যদি ধারণা করে নেই যে, হয়তো বা তার ডুয়েল সিটিজেনশিপ (দ্বৈত নাগরিকত্ব) আছে। তার কাছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই তার কাছে যদি ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকে এবং যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসাবে কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন করে থাকে, তাকে অবশ্যই আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে আখ্যায়িত করতে পারি না। বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের বলব, কাদের অধীনে আপনারা রাজনীতি করছেন।
আরও অনেক তথ্য ছিল, সময়ের অভাবে বলতে পারছেন না উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মার্কিন দূতাবাস একটি তারবার্তায় বলেছিল, তারেক রহমানের প্রকাশ্য দুর্নীতি মার্কিন সরকারের তিনটি লক্ষ্য-গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করার মিশনকে প্রচ- হুমকির সম্মুখীন করেছে। আইনের প্রতি তার প্রকাশ্য অশ্রদ্ধা বাংলাদেশের জঙ্গিদের শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে শাহরিয়ার আলম বলেন, সরকারের নানা উন্নয়নের পরও কিছু চক্রান্ত আমাদের সমস্যার মধ্যে ফেলে দেয়। বাজেট বক্তৃতার পরে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে অপপ্রচার করে, ভিডিও এডিটিং করে প্রবাসীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। বলা হয়েছিল, প্রবাসীদের আয়ের ওপর নাকি ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে, ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা একেবারেই একটি মিথ্যাচার। বরং প্রবাসীরা তাদের অর্থ কীভাবে কম খরচে ও সহজে দেশে পাঠাতে পারে, সরকার সেই ব্যবস্থা করে যাচ্ছে।
ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *