তীব্র শৈত প্রবাহে জনজীবন স্থবির

সারা দেশ সহ বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ গত কয়েকদিনের শৈত প্রবাহে নওগাঁ জেলা সদর সহ জেলার অন্যান্য উপজেলা গুলোতে জন জীবন একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে। সারাদিন ঘন কুয়াশার সাথে তীব্র শৈত প্রবাহের কারনে সুর্যের মুখ যেমন দেখা পাওয়া ভার তেমনি বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে শিশু বৃদ্ধ সহ হতদরিদ্র মানুষ।

বৃহস্পতিবার জেলার পত্নীতলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে-রিক্সা-ভ্যান চালক সহ দিন মজুর, হতদরিদ্র ও ছিন্নমুল মানুষেরা তীব্র শীত ও শৈত প্রবাহ থেকে একটু পরিত্রান পাওয়ার জন্য সকাল সন্ধ্যায় বাড়ী সহ বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে খরকুটা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে একটু উত্তাপ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে হাট, বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে তীব্র শৈত প্রবাহের কারনে সন্ধ্যার পর মানুষের উপস্থিতি একেবারেই কমেগেছে।

এলাকার কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানাযায় বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীতের এই সময়টায় তাদের খুব কষ্ট হয়। তীব্র শীতের কারনে অনেকে সকালে কাজে যেতে পারেনা। এবারে হঠাৎ করেই শৈত প্রবাহের কারনে দিন মজুর সহ হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

আকস্মিক এই শৈত প্রবাহে একটু উষ্ণতার খোঁজে উপজেলা বাসী তাই ছুটছে গরম কাপড় গুলোর দোকানে। অভিজাত বিপণি গুলোতে বিত্তবানরা ও মধ্যবিত্তরা ভিড় করলেও দিন মজুর সহ হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরা ভিড় জমিয়েছেন ফুটপাতের দোকান গুলোতে। এদিকে হঠাৎ করে তীব্র শীত ও শৈত প্রবাহ জেঁকে বসায় এলাকায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া সহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।

তীব্র এই শীতের হাত থেকে রক্ষাপাবার জন্য উপজেলার দিন মজুর সহ হতদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরা প্রশাষন সহ সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

এব্যাপারে পতœীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ রঞ্জন চৌধুরী জানান, হঠাৎ শীতের প্রকোপ বাড়লেও ডায়রিয়া, নিউমনিয়া সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখনো হাসপাতালে তেমন বাড়েনি।

মহাদেবপুর উপজেলায় হঠাৎই গত মঙ্গলবার রাত থেকে উত্তরের হীমেল হাওয়ার গতি বাড়তে থাকে সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে শীতের তীব্রতা। চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বুধবার সকাল থেকে হঠাৎই শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দরিদ্র প্রবীণ নারী-পুরুষ ও শিশুরা বেকায়দায়। আর হঠাৎ শীতের তীব্রতার কারণে অধিক ভোগান্তির শিকার হয়েছে অতি দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের মানুষ বিশেষ করে প্রবীণ নারী-পুরুষ ও শিশুরা।

সরেজমিনে বুধবার মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। হঠাৎ শীতের তীব্রতার কারণে বাজারের অর্ধেক দোকান-পাট বন্ধ। নিতান্তই প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন তাদের শীতে জড়োসড়ো হয়ে থাকতে দেখা গেছে।

মহাদেবপুর সদরের চায়ের দোকানদার ফারুক হোসেন ও মাসুদ রানা জানান, নিতান্তই পেটের দায়ে তীব্র এই শীতের মধ্যে চায়ের দোকান খোলা। চায়ের দোকানে কথা হয় ষাটোর্ধ গোলাম রসুল বাবু ও আবদুুল জব্বারের সঙ্গে। তারা জানান, শীত যত বেশীই হোক না কেন আমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের প্রবীণদের ভাগ্যে জোটে পরিবারের অন্য সদস্যদের বাতিল করে দেওয়া পুরনো শীতবস্ত্র। সরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও প্রবীণদের জন্য শীতবস্ত্র বরাদ্দের বিষয়টি কেউ ভেবে দেখে না।

জানা গেছে, ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী নওগাঁ জেলায় ২৬ লাখ মানুষের বাস। সে হিসাবে জেলায় ২ লাখেরও বেশি প্রবীণ মানুষের বাস। এসকল প্রবীণরা পরিবার ও সমাজে নানা বঞ্চনার শিকার। প্রতি বছর শীত মৌসুমে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও প্রবীণদের ভাগ্যে তা কমই জোটে। এবিষয়েও হেল্পএইজ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রজেক্ট অফিসার আউটরীচ এভ্যাম্পেইন বেলায়েত হোসেন জানান, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে প্রবীন হিসেবে সরকার ঘোষণা করেছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares