তৃতীয় জয় তুলে নিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস

চিটাগং ভাইকিংসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বিপিএলে তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

ব্যাট-বলের অসাধারণ পারফরম্যান্সে চিটাগংকে হারাতে বেগ পেতে হয়নি কুমিল্লার। চতুর্থ ম্যাচে এটি কুমিল্লার তৃতীয় জয়। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠে এসেছে তৃতীয় আসরের চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে চিটাগং ভাইকিংসের চতুর্থ ম্যাচে এটি দ্বিতীয় পরাজয়।

মঙ্গলবার মিরপুরে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কুমিল্লার আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৯ রান করে চিটাগং। জবাবে ১১ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে কুমিল্লা।

বরাবরের মতো চিটাগং ভাইকিংসকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন লুক রনকি। ১৯ বলে নিউজিল্যান্ডের এ ক্রিকেটার করেন ৩১ রান। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়ে ফেরেন সাইফউদ্দিনের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে।

তার ফিরে যাওয়ার পর সৌম্য সরকার ৩২ বলে ৩০ রান করে চিটাগংয়ের রান সচল রাখেন। কিন্তু বাঁহাতি এ ওপেনারের বিদায়ের পর চিটাগংয়ের রান তোলার গতিও কমে যায়।

শেষ ১২ ওভারে মাত্র পাঁচ বাউন্ডারির স্বাদ পায় চিটাগং। কোনো ব্যাটসম্যান একটি ছক্কা হাঁকাতে পারেননি এ সময়ে। বলার অপেক্ষা রাখে না, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন ছন্নছড়া ব্যাটিংয়ে বিরক্ত মাঠে উপস্থিত হওয়া দর্শকরাও! এ কারণে চিটাগং ভাইকিংসের ব্যাটসম্যানরা দর্শকদের দুয়োধ্বনি শুনেছেন।

দিলশান মুনাবীরা ২৫ বলে ১৯, সিকান্দার রাজা ২৪ বলে ২০, মিসবাহ-উল-হক ১১ বলে ১৬ ও ক্রিস জর্ডান ৯ বলে ১৬ রান করে চিটাগংয়ে রান ১৩৯-এ নিয়ে যান।

শুরুর দিকে কুমিল্লার বোলাররা রান দিলেও মাঝপথে ও শেষ দিকে হিসেবী বোলিং করেন। সাইফউদ্দিন, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান ও ডোয়াইন ব্রাভো ১টি করে উইকেট নেন।

লক্ষ্য তাড়ায় এবারের বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা তামিম ইকবাল সাজঘরে ফেরেন শুরুতেই। চোট থেকে ফিরে এসে দেশসেরা ওপেনার আউট হন ৪ রানে। লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৩২ রান। তামিমকে ফেরানো মুনাবীরা চিটাগংকে দ্বিতীয় উইকেটের স্বাদ দেন লিটনকে বোল্ড করে। ২০ বলে ২১ রান করেন লিটন।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কুমিল্লাকে। আগের ম্যাচে ইমরুল কায়েস ও জস বাটলার অবিচ্ছিন্ন ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েছিলেন। এদিনও থিতু হয়ে যায় এ জুটি। ৫০ বলে ৭৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের ভিত দেন তারা। ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়িয়ে আজও দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন ইমরুল।

কিন্তু আক্ষেপেও পুড়তে হয় তাকে। হাফ সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে থেকে আউট হন সানজামুল ইসলামের বলে। ৩৬ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ রান করেন আগের ম্যাচে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকা ইমরুল।

ইমরুলকে ফেরানোর পর কুমিল্লা শিবিরে আবারও আঘাত হানেন সানজামুল। জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে স্টাম্পড হন ৩১ বলে ৪৪ রান করা বাটলার।

বাকি কাজটুকু সারেন মোহাম্মদ নবী ও মারলন স্যামুয়েলস। নবী শূন্য ও স্যামুয়েলস ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares