দলীয় ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশর সংগ্রহ ২১১

 

প্রথমে লিটন দাস, পরে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ—এই তিন ব্যাটসম্যান আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঝড় তুললেন, আর এতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

বেশ শীত পড়েছে ঢাকায়। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গ্যালারির দর্শকেরা তাই গুটিসুটি মেরেই বসেছিলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকা যায়নি। প্রথমে লিটন দাস পরে সাকিব, মাহমুদউল্লাহদের দুর্দান্ত সব স্ট্রোকে শীতের ‘ওম’ পেয়েছেন দর্শকেরা। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের কপাল থেকে ঝরেছে ঘাম, দুশ্চিন্তার ঘাম। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ তুলেছে ৪ উইকেটে ২১১। এটি মিরপুরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংসের রেকর্ড। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বোলারদের পিটিয়ে ছাতু বানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। আজ বোধ হয় তার শোধ তুলতেই নেমেছিলেন লিটনরা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শেলডন কটরেলের করা প্রথম ওভারে ৯ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন। তামিম অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শুরু থেকেই টাইমিং করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। পঞ্চম ওভারে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন বাজে টাইমিংয়েরই খেসারত গুণে। তার আগে ১৬ বলে করেছেন ১৫ রান। তবে অন্য প্রান্তে সুবাস ছড়িয়েছেন লিটন।

কটরেলের করা তৃতীয় ওভারে এসেছে ১৩ রান, এর মধ্যে লিটন তিন চারে একাই তুলেছেন ১২। তিনটি শটই ছিল নান্দনিক। ব্রাফেটের করা পরের ওভারেও এসেছে ১৩ রান। সেই ওভারের শেষ দুই বলে লিটনের মারা দুটি ছক্কা দর্শকদের মনে থাকবে বহু দিন। দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য-লিটনের ৪৩ বলে ৬৮ রানের জুটিতেই মূলত প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৯৯ রানের দুর্দান্ত শুরু পেয়ে যায় বাংলাদেশ। পরের ওভারেই অবশ্য ছন্দপতন। কটরেলের প্রথম বলে এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে কার্লোস ব্রাফেটের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন সৌম্য (৩২)। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২২ বলের ইনিংসে দারুণ কিছু শট খেলেছেন তিনিও।

ওই ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়ে ফিরছেন লিটন। তার আগে ৪ ছক্কা ও ৬ চারে ৩৪ বলে তাঁর ৬০ রানের ইনিংস দিয়ে প্রথম ১০ ওভার বাংলাদেশের ইনিংসকে বলতে গেলে একাই টেনেছেন লিটন। মুশফিক এসেছে ধৈর্য হারিয়েছেন পরের ওভারেই। ওশানে টমাসকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন। ১১ ওভার শেষে যে দলের স্কোর ১ উইকেটে ১১০, সেখান থেকে ১৩ ওভার শেষে সেই দলই ৪ উইকেটে ১২০। এ সময় কিছুটা দুশ্চিন্তায়ই পড়েছিলেন গ্যালারির দর্শকেরা। আবারও কি মড়ক! না, লিটন নতুনের কেতন ওড়ানোর পর দারুণ ব্যাটিংয়ের দলের ইনিংসের শেষটা টেনেছেন দুই অভিজ্ঞ সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। তারা ৭ ওভার ব্যাটিং করে গড়েন ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। সাকিব করেছেন ২৬ বলে অপরাজিত ৪২। ইনিংসে আছে ৫টি চার ও ১টি ছয়ের মার। মাহমুদউল্লাহ ৭টি চারে ২১ বলে করেছেন ৪৩।