নানা সমালোচনা নিয়ে কতোটা প্রস্তুত রাশিয়া?

বিশ্বকাপ আয়োজন করার ক্ষমতা, রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা স্নায়ুযুদ্ধের আশঙ্কা – এমন অনেক রকম জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে রাশিয়ায় শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ।

২০১৮’র ফুটবল বিশ্বকাপ যে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে তা ঠিক হয় ২০১০ এর ডিসেম্বরে। এরপর গত আটবছরে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুই।

২০১৪’র সোচি অলিম্পিকসে রাষ্ট্রীয় মদদে ডোপিংয়ের অভিযোগ, ডোপিংয়ের কারণে ২০১৬’র ব্রাজিল অলিম্পিকস আর প্যারালিম্পিকসে রাশিয়ান অ্যাথলিটদের নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ, সাবেক গুপ্তচরকে বিষপ্রয়োগে হত্যাচেষ্টাসহ নানা ধরণের সমালোচনায় জড়িয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়ার ভেতরে মানবাধিকার ভঙ্গ হচ্ছে, এমন অভিযোগও উঠেছে সম্প্রতি।

রাশিয়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাথে কাজ করেন তানিয়া লকচিনো, যিনি বলছিলেন রাশিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।

মিজ. লকচিনো বলেন, “গত কয়েকবছর যাবত রাশিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি

তবে রাশিয়ায় বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকরা অবশ্য এই অস্থিরতা বুঝতে পারবেন বা এর দ্বারা খুব একটা প্রভাবিত হবেন বলে মনে করেন না তিনি।

রাশিয়ায় চলমান অস্থিরতা নিয়ে বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া দর্শকরা চিন্তিত না হলেও ক্ষ্যাপাটে ফুটবল ফ্যানদের কথাটা তাদের মাথায় রাখতেই হবে।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশের ফুটবল ফ্যানরাই নিজ দেশকে সমর্থন করতে দল বেধে ঘুরে বেড়ান এক দেশ থেকে আরেক দেশ। ২০১৬’র ইউরোতে রাশিয়া আর ইংল্যান্ডের এরকম দুই দল সমর্থকের হাঙ্গামায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ফ্রান্সের মার্সেইয়ের একটি পানশালায়।

রাশিয়ায়ও এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে রাশিয়ান ফ্যানরা নিশ্চিত করেন যে, অন্তত তাদের পক্ষ থেকে কোনো হাঙ্গামা শুরু হবে না।

একজন রাশিয়ান ফুটবল ফ্যান বলেন, “সমর্থকদের কোনো দল যদি হাঙ্গামা করতে চায় তাহলে তারা তা অবশ্যই পাবে। তবে তা হবে স্টেডিয়াম ও সাধারণ সমর্থকদের চেয়ে অনেকটা দূরে গিয়ে।”

“খেলা দেখতে আসা মানুষ যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটি আমরা নিশ্চিত করবো। আর আমি এ নিশ্চয়তাও দিতে পারি যে রাশিয়ানরা কোনো হাঙ্গামা আগে থেকে শুরু করবে না,তবে অন্য কোনো দল শুরু করলে থেমেও থাকবে না।”

 

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। তিনি মনে করেন এবারের বিশ্বকাপ অর্থনৈতিকভাবে সফল একটি আসর হবে।

মি. ইনফ্যান্টিনো বলেন, “প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। টিকিট বিক্রির হিসাবে দেখলে বোঝা যায় যে পৃথিবীজুড়ে কত মানুষ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে আগ্রহী। বিশ্ববাসীর মত আমিও উদগ্রীব হয়ে আছি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার জন্য।”

আসর শুরুর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা আয়োজকদের দোষ-ত্রুটি নিয়ে হাজারো আলোচনা হলেও, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে নি:সন্দেহে সব আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে মাঠের খেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *