নির্বাচন মাঠ: চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত প্রার্থীরা

আগামী ২০১৯ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মনোনয়ন পেতে তারা চালাচ্ছেন নানা তৎপরতা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কেউ কেউ লিপ্ত হচ্ছেন। আবার অনেকে হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়ে এলাকায় কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকরাও মনোনয়ন প্রশ্নে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার হিসাব কষতে শুরু করেছেন। সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন বাগিয়ে নিতে নানা কৌশল এবং সমীকরণ মেলাচ্ছেন তারাও।

ফেনী ২:

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেনীতে যার যার মতো কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ফেনীর ৩টি আসনের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো সদর আসন। ফেনী পৌরসভা ও সদর উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন নিয়ে ফেনী-২ সদর আসন গঠিত।

অতীতে এ আসনে যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তারা জেলার নিয়ন্ত্রক হিসেবে ছিলেন। জেলা সংগঠনের মূল ভূমিকায়ও তাদের দেখা গেছে। অনেকে আবার ক্ষমতা পেয়ে গডফাদার খ্যাতিও পেয়েছেন। ফেনীর ৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে এ আসন নানাভাবে আলোচিত হয়েছে এবং পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে ফেনী সদর-২ আসনের এমপি হিসেবে রয়েছেন জেলা আ‘লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন হাজারী। তিনি সাড়ে ৩ বছর ফেনী পৌরসভার মেয়র ছিলেন। মেয়র থাকাকালে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় এমপি হন।

নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মী হত্যা, নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের। এসব নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। এ ছাড়া কারাগারে তার সাজা খাটার বিষয়টি নির্বাচনী হলফনামায় লুকিয়ে এমপি হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দলের হাইকমান্ড বেশ ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ চেয়ে গণভবনে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান বলে গণভবনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এবার তিনি মনোনয়ন না পেলে মাঠজরিপে বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া নাসিরের নাম।

মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ উদ্যমী সাইফুদ্দিন নাসির নিজের যোগ্যতা ও বিজয়ের ব্যাপারে আস্থাশীল। তিনি ভাবেন,এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তার একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় তার সরব উপস্থিতি ও নানা রকম কর্মকান্ড রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গরীর অসহায় মানুষের সহযোগিতায় কাজ করছেন তিনি। নতুনত্বের অঙ্গীকার নিয়ে আগামী দিনে ফেনী সদর আসনে তার আবির্ভাব ঘটবে বলে মনে করছেন অনেকে। নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলে তিনি নিজের আসনটি দলীয় সভাপতিকে উপহার দিতে পারবেন।

 

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিড়ায়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীকে নিয়ে একাধিকবার বিব্রত হয়েছে আওয়ামী লীগ। তার বিকল্প হিসবে আসনটিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নূরুল হকের বিরুদ্ধে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারকে বাড়ি থেকে উৎখাতের চেষ্টার অভিযোগ আছে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। উঁচু দেয়াল তুলে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয় সেই পরিবারের। অমানবিক এ বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে আলোড়ন ওঠে দেশজুড়ে। আসনটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।

 

সিলেট সদর আসন থেকে আর নির্বাচন না করার ব্যাপারে একাধিকবার ঘোষণা দিয়েও নির্বাচন করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে এবার ওই আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ। অর্থমন্ত্রী নির্বাচন না করলে তার ভাই ও জাতিসঙ্ঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এম এ মোমেনও প্রার্থী হতে আগ্রহী। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রার্থী করা হতে পারে এমন আলোচনাও দলে আছে।

 

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের কাছে হেরে যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান। জাতীয় পার্টির কাছে হেরে দলের ইমেজ নষ্ট করায় এবার আওয়ামী লীগ সভাপতির বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা ও বেক্সিমকো গ্রুপের কর্নধার সালমান এফ রহমান এখানে মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে জোর আলোচনা আছে। তবে এখনো মাঠ ছাড়েননি আবদুল মান্নান খান।

(প্রথম পর্ব)

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *