পোলার্ড ঝড়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখলো ঢাকা

মিরপুরে দুই ক্যারিবীয় ক্রিকেটারের তাণ্ডব। একজন ঢাকা ডায়নামাইটসের জার্সিতে, অন্যজন খুলনা টাইটান্সের।

শুরুটা করেছিলেন খুলনার কার্লোস ব্রেথওয়েট।২৯ বলে দীর্ঘদেহী এ ব্যাটসম্যান করেন ৬৪ রান। পরবর্তীতে ৬ ফিট ৪ ইঞ্চির কাইরন পোলার্ড ২৪ বলে করেন ৫৫ রান। ব্রেথওয়েট বল খেলায় ও রানে এগিয়ে থাকলেও দুজন এক বিন্দুতে ঠিকই মিলিত হয়েছেন। ডানহাতি এ দুই ব্যাটসম্যান সমান ৬টি করে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না প্রতিটি ছক্কা ছিল চোখ ধাঁধানো, নান্দনিক এবং বিশাল।আশ্চর্যজনকভাবে এ দুই ব্যাটসম্যান বাদে দুই দলের কেউই একটি ছক্কা হাঁকাতে পারেননি।

ছক্কা বৃষ্টি কিংবা রান উৎসব করলেও শেষ হাসিটা হেসেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। খুলনা টাইটান্স টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ব্রেথওয়েটের তাণ্ডবে ৫ উইকেটে ১৫৬ রান করে। জবাবে ঢাকা ডানামাইটস ৪ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতেছে। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে প্রথম ম্যাচটি জিতেছিল ঢাকা। সেবার ঢাকার জয়ে কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি খুলনা। কিন্তু এবার ম্যাচ হারলেও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছে।

ম্যাচের শেষটা ছিল নাটকীয়। ৬ বলে ৬ রানের প্রয়োজন ছিল ঢাকার। ব্রেথওয়েটের প্রথম দুই বলে ব্যাটে বলই লাগাতে পারেননি জহুরুল ইসলাম অমি। পরের দুই বলে দুই রান নেন অমি ও মোসাদ্দেক হোসেন। শেষ ২ বলে প্রয়োজন ৪ রান। ব্রেথওয়েটের ফুলার লেন্থ বল রিভার্স স্কুপ করলেন অমি। থার্ড ম্যান অঞ্চল দিয়ে বল যায় বাউন্ডারিতে। ৩৯ বলে ৪৫ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন জহুরুল ইসলাম।

ঢাকার আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনার শুরুটা ছিল বাজে। ৪৬ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। চতুর্থ উইকেটে রাইলি রুশো ও মাহমুদউল্লাহ দলকে টেনে নেন ৭১ রান পর্যন্ত। এ জুটিতে রুশোর অবদানই ছিল বেশি।

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ানো মাহমুদউল্লাহ আজকের ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেননি। ১০ বলে ১৪ করে বিদায় নেন শহীদ আফ্রিদির বলে স্ট্যাম্পড হয়ে। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে খুলনার সমর্থকদের মুখের হাসি কেড়ে নিলেও সেই হাসি ক্রিজে নেমেই ফিরিয়ে আনেন ব্রেথওয়েট।

নিজের পঞ্চম বলে প্রথম বাউন্ডারিরর স্বাদ পাওয়া ব্রেথওয়েট ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে করেন ৬৪ রান। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো হাফ সেঞ্চুরির স্বাদও পান এ ম্যাচে। প্রথম দশ ওভারে ৪৫ রান করা খুলনা শেষ দশ ওভারে করে ১১১ রান। এর পুরো কৃতিত্বটাই ব্রেথওয়েটের। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন রাইলি রুশো।

বল হাতে ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন আবু হায়দার। তবে ৪০ রান খরচ করেন ৪ ওভারে। সাকিব ৩ ওভারে ৩২ রান দিয়ে নেন মাত্র ১ উইকেট।

১৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪১ রান তুলতেই ঢাকার অর্ধেক ব্যাটসম্যান সাজঘরে। টপ ফোর ব্যাটসম্যান লুইস, আফ্রিদি, নারিন ও ডেলপোর্ট কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেনি। পাঁচে নামা সাকিব ১৭ বলে ২০ রান করে ফিরেন মাহমুদউল্লাহর বলে। বিপদে পড়া ঢাকাকে টেনে তুলেন কাইরন পোলার্ড। মূলত ১১ ও ১৩তম ওভারে মূল ঝড়টা তুলেন পোলার্ড। ১১তম ওভারে মাহমুদউল্লাহকে চারটি ছক্কা মারেন পোলার্ড। ওই ওভারে আসে ২৫ রান।

ব্রেথওয়েটের করা ১৩তম ওভারে পোলার্ড তুলেন আরও ২০ রান। দুই ওভারের তাণ্ডবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ঢাকা। শফিউলের বাউন্সারেজয় থেকে ৪৩ রান আগে পোলার্ড ফিরে গেলে জয়ের স্বপ্ন আবারও জেগে উঠে খুলনার। কিন্তু সপ্তম উইকেটে জহুরুল ইসলাম ও মোসাদ্দেকের জুটিতে শেষ হাসিটা হাসে ঢাকা। অমির ৪৫ রানের সঙ্গে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন।

বল হাতে খুলনার হয়ে দারুণ বোলিং করেন শফিউল ইসলাম। জাতীয় দলের এ ক্রিকেটার ২৪ রানে নেন ২ উইকেট।

এ জয়ের ফলে ৪ ম্যাচের ৩টিতে জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares