প্রচন্ড গরমে পেটের অসুখ থেকে বাঁচতে ‘ফাইভ এফ’

ইংরেজিতে এফ দিয়ে শুরু হয় এমন পাঁচটি শব্দ যদি আপনি মনে রাখেন আর এই পাঁচটি বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলেন, তাহলে খুব সহজেই এই প্রচন্ড গরমে নিজেকে সুস্থ রাখতে পারেন ডায়ারিয়া, কলেরা বা এ ধরণের অনেক পেটের পীড়া থেকে।

বাংলাদেশে এখন যে প্রচন্ড গরম পড়েছে, তাতে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে নানা ধরণের পেটের পীড়া। ঢাকার মহাখালীতে আইসিডিডিআরবির হাসপাতালে গত কয়েকদিনে প্রচুর রোগী ভর্তি হয়েছেন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে। এদের মধ্যে ডায়ারিয়া থেকে শুরু করে কলেরায় আক্রান্ত অনেক মানুষও আছেন।

কীভাবে এই গরমে আপনি পেটের পীড়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন? ঢাকার একটি বেসরকারি হেল্থকেয়ার প্রতিষ্ঠান ‘প্রাভা হেলথে’র ফ্যামিলি ফিজিসিয়ান ডাঃ সামিনা পারভিন ইংরেজিতে ‘এফ’ আদ্যাক্ষর দিয়ে শুরু হয় এমন পাঁচটি শব্দে বলেছেন কী করতে হবে:
১. ফুড অর্থাৎ খাবার:

খাবার সবসময় ঢেকে রাখতে হবে, বাসি খাবার একদমই খাওয়া যাবে না। খাবার গরমে দ্রুত নষ্ট হয়। রাস্তার খাবার খাওয়া উচিৎ নয়, খাবার বারবার গরম করে খাওয়া উচিৎ নয়। মাছির জন্য খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে। গরমে ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যায়। তাই এমনকি খাবার ফ্রিজে রাখলেও তাতে জীবাণু জন্ম নিতে পারে। সেই খাবারও ভালো করে গরম করতে হবে।
২. ফ্লুইড অর্থাৎ পানি বা তরল পদার্থ:

যে পানিই আপনি খাবেন চেষ্টা করতে হবে ফুটিয়ে শুদ্ধ করে খাওয়ার। বাড়ির বাইরে যাবার সময় বোতলে করে ফুটনো পানি নিয়ে যাওয়া উচিৎ। ভবনের নিচে পানির মূল ট্যাংকি পরিষ্কার রাখতে হবে।
৩. ফ্লাই অর্থাৎ মাছি বা পোকামাকড়

মাছি সব কিছুর উপর বসে। তাই মাছি ডায়ারিয়ার সংক্রমণ ছড়াতে খুব বড় ভূমিকা পালন করে। সেজন্যে সবসময় সব খাবার ঢেকে রাখতে হবে।

৪. ফিসিস অর্থাৎ মল

সুরক্ষিত যায়গায় মলত্যাগ করতে হবে যাতে এটি মাছি বা তেলাপোকার সংস্পর্শ না আসে।
৫. ফিঙ্গার মানে আঙুল

খাবার খাওয়ার আগে এবং মল ত্যাগ করার পর অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। হাতের নখ ছোট করে কেটে রাখতে হবে। কারণ নখের কোনায় একটি ছোট খাদ্যকণা রয়ে যেতে পারে, সেটা পচে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে, সেটা আবার খাবার খাওয়ার সময় পেটে চলে যেতে পারে।