প্রস্তুত ফাইনালের মঞ্চ! কে জিতবে?

রানার্সআপ খেতাব পেলেও মুকুট জেতা হয়নি কোনো দলেরই। তবে প্রথমবারের মতো এবার বিশ্বকাপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয়ের সুবর্ণ সুযোগ ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড দুই দলের সামনেই। ঐতিহ্যবাহী লর্ডসে দুই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট-বল হাতে লড়তে নামবে।

রোববার (১৩ জুলাই) লর্ডসে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। এর আগে এবারের বিশ্বকাপে লিগ পর্বের মোট ৪৫টি ম্যাচ শেষে সেরা চার দল জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। দলগুলো হলো- ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেমিফাইনালের ম্যাচ জিতে নেয় ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড।

প্রথম সেমিফাইনালে ভারতকে ১৮ রানে নিউজিল্যান্ড ও দ্বিতীয় সেমিতে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে হারায় অস্ট্রেলিয়াকে। ম্যানচেষ্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথম সেমিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় নিউজিল্যান্ড। ৪৬ দশমিক ১ ওভারে ৫ উইকেটে ২১১ রান তুলে চাপে ছিল নিউজিল্যান্ড। এরপর বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। পরবর্তীতে আর খেলা শুরু না হলে, রিজার্ভ ডে’তে গড়ায় ম্যাচটি।

দ্বিতীয় দিন ভারতীয় বোলারদের নৈপুণ্যে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৯ রানের বেশি করতে পারেনি কিউইরা। জবাবে ব্যাট হাতে নেমে মহা বিপদে পড়ে ভারত। ৫ রানে ৩ উইকেট, ৯২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এতে ম্যাচ জয় সময়ের ব্যাপার ছিল নিউজিল্যান্ডের। কিন্তু রবীন্দ্র জাদেজার ব্যাটিং দৃঢ়তায় লড়াইয়ে ফিরতে সক্ষম হয় ভারত। তবে শেষদিকে, জাদেজা ৫৯ বলে ৭৭ ও ধোনি ৭২ বলে ৫০ রান করে ফিরে গেলে জয়ের স্বাদ পায় নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় সেমিতে বার্মিংহামের এজবাস্টনে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই ইংল্যান্ড বোলারদের তোপে পড়ে অজিরা। ১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। শুরুর ধাক্কাটা পরবর্তীতে সামাল দিলেও শেষ পর্যন্ত ৪৯ ওভারে ২২৩ রানে গুটিয়ে যায় অজিরা। অস্ট্রেলিয়ার ২২৪ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে হিমশিম খেতে হয়নি ইংল্যান্ডকে। ওপেনার জেসন রয়ের ৬৫ বলে ৮৫ রান ইংলিশদের জয় সহজ করে। ফলে সেমির ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াইয়ের টিকিট পায় ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড।

এই নিয়ে চতুর্থবারের মত বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। তিনবারই হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইংলিশদের। ১৯৭৯, ১৯৮৭ ও ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল দলটি। তবে সেখানে রানার্স-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ইংলিশদের। এরপর আর কোনো আসরের ফাইনালে উঠতে পারেনি ইংল্যান্ড।

সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারানোর পর ইংলিস অধিনায়ক মরগান বলেন, আমরা গেল চার বছর অনেক পরিশ্রম করেছি। সেই ফল আজ দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব দেখছে আমরা এখন সেরার মুকুট পরা থেকে এক ধাপ দূরে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের। তবে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই পাকিস্তানের কাছে হেরে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে হোঁচট খেলেও, এরপর হ্যাটট্টিক জয়ের স্বাদ নেয় মরগানবাহিনী। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ-আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসে জয়। কিন্তু হ্যাটট্টিক জয়ের পর টানা দু’ম্যাচ হেরে সেমিফাইনালে উঠার পথ কঠিন হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার। লিগ পর্বে শেষ দুই ম্যাচে ভারত-নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড। ৯ খেলায় ৬ জয়, ৩ হারে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেন ট্রেভর বেলিসের শিষ্যরা।

অপরদিকে, ইংল্যান্ড চতুর্থবারের মত সেমিফাইনালে উঠলেও টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল নিউজিল্যান্ড। গত আসরের ফাইনালে উঠেও রানার্স-আপ হয়ে বিশ্বকাপ শেষ করতে হয়েছিল। সেবার মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ উইকেটে হেরে গিয়েছিল কিউইরা।

বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। শ্রীলংকার বিপক্ষে ১০ উইকেটের জয় দিয়ে শুভ সূচনার পর টানা দু’জয় তুলে নেয় কিউইরা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলেও, পরের দু’ম্যাচ জিততে বেগ পেতে হয়নি নিউজিল্যান্ডের। ফলে তাই প্রথম ছয় ম্যাচ থেকে পাঁচ জয়ের ১০ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে খুব কাছে পৌছে যান উইলিয়ামসন-বোল্টরা।

কিন্তু লিগ পর্বে নিজেদের শেষ তিন ম্যাচেই হেরে সেমির পথ কঠিন হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচের ফলাফলের দিকে চেয়ে থাকতে হয়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান জিতলে নিউজিল্যান্ডের সমান ১১ করে পয়েন্ট হয়। তবে রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠে নিউজিল্যান্ড।

এবার শিরোপা জিততে বদ্ধ পরিকর কিউই অধিনায়ক। তার মতে, আবারো আমাদের সামনে বিশ্ব মঞ্চে সেরা হবার সুযোগ এসেছে। গেল আসরে আমরা সুযোগ হাতছাড়া করেছিলাম। এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না। দলের সবাই শিরোপা জিততে মুখিয়ে আছে। আমি মনে করি, আমরা সেরাটা দিতে পারলে এবারের শিরোপা আমাদেরই হবে।

এবারের আসরে লিগ পর্বে চেষ্টার লি স্ট্রিটে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। ঐ ম্যাচে ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি কিউইরা। ১১৯ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার জনি বেয়ারস্টোর সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩০৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় ইংলিশরা। ১৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৯৯ বলে ১০৬ রান করেন বেয়ারস্টো।

জবাবে ৪৫ ওভারে ১৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলতে দেয়নি। ইংল্যান্ডের পেসার মার্ক উড ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন। তবে এই জয় কোনো কাজে আসবেনা ইংল্যান্ডের জন্য। কারণ এবার বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়তে হবে ইংলিশদের। সেই মঞ্চের আবহ বেশ ভালোই জানে নিউজিল্যান্ড। চার বছর পেরিয়ে গেলেও আসরের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা বেশ রয়েছে তাদের। এক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে ইংল্যান্ড।

ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৯০টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড ৪৩টিতে, ইংল্যান্ড ৪১টিতে জয় পায়। ২টি টাই ও ৪টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। তবে এবার ফাইনাল বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম।