ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলা পুনঃতদন্তের আবেদন

ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলার পুনঃতদন্ত চেয়ে ঢাকার আদালতে আবেদন করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ আবেদন করেন ফরহাদ মজহারের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।

সোমবার রাতে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, পুলিশ মামলাটিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু নারাজি দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে উল্টো ফরহাদ মজহার ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা আখতারের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দেন আদালত। পরে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে।

জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, নারাজি দেওয়ার সুযোগ ও পুনরায় মামলার তদন্ত চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। আর পুলিশের মামলার কার্যক্রম স্থগিতও চাওয়া হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ শুনানির দিন রেখেছেন আদালত।

এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও হয়রানির অভিযোগে পুলিশের করা মামলায় ফরহাদ মজহার ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা আখতারকে ৩০ জানুয়ারি হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন ঢাকার সিএমএম আদালত। গত ২৮ ডিসেম্বর মিথ্যা তথ্য ও হয়রানির অভিযোগে ফরহাদ মজহার ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা আখতারের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও আবেদন করা হয়।

এর আগে ৭ ডিসেম্বর ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে পুলিশ। মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করায় দণ্ডবিধির ২১১ ও ১০৯ ধারায় মামলার বাদী ফরিদা আখতার ও ভুক্তভোগী ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন করা হয়। আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পুলিশকে মামলা করার অনুমতি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ২৮ ডিসেম্বর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলায় পুলিশ বলেছে, গত ৩ জুলাই ফরহাদ মজহার অপহৃত হয়েছেন বলে অভিযোগ এনে ফরিদা আখতার আদাবর থানায় মামলা করেন। ডিবি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, ফরিদা আখতারের অভিযোগ সত্য নয়।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দুই দিন পর ৯ ডিসেম্বর ফরহাদ মজহার তাঁর হক গার্ডেনের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন, অপহরণকারীরা তাঁকে খুলনা-যশোর সীমান্তের দিক দিয়ে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, তাঁকে ‘গুম’ করার উদ্দেশ্যেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। সে অবস্থা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করলেও পরে চাপ দিয়ে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে।

ফরহাদ মজহারের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ৩ জুলাই ভোর পাঁচটার দিকে শ্যামলীর হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হন ফরহাদ মজহার। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর ৫টা ৫ মিনিটে ফরহাদ মজহার খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামেন। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফরহাদ মজহার স্ত্রী ফরিদা আখতারকে ফোন করে বলেন, ‘ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ এ ঘটনায় রাজধানীর আদাবর থানায় ফরহাদ মজহারের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেন।

prothom Alo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *