ফেরত এসে কী বললেন অনন্য মামুন?

মালয়েশিয়ায় হিউম্যান স্মাগলিংয়ের (বৈধ ভিসায় গিয়ে ফেরত না আসা) অভিযোগে আটক বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা অনন্য মামুন দেশটির পুলিশ হেফজত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শনিবার দেশে ফিরেছেন। তার বিরুদ্ধে দেশটির পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। তার দাবি মতে, মালয়েশিয়ায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং সেখানে তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ নয় বরং হিউম্যান স্মাগলিংয়ের (বৈধ ভিসায় গিয়ে ফেরত না আসা) অভিযোগ আনা হয়েছিল। দেশে ফিরেই সময় নিউজকে ওই সময়কার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় আটকের বিষয়ে বলতে গিয়ে অনন্য মামুন বলেন, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর কিছু লোক আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। এরপর শো’র আগের দিন তারা আমাদের কাছে কিছু ফ্রি টিকিট চান। কিন্তু আমরা তাদের কোনো দাবিই পূরণ না করায় তারা আমাদের হুমকি দেন। পরবর্তীতে দেশটির পুলিশের কাছে বাঙালি কমিউনিটির কেউ একজন আমাদের নামে অভিযোগ দেন। আমাদের কাছে দেশে ফেরার টিকিট থাকলেও পুলিশ ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের আটক করে।

পুলিশ শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতেই তাদের আটক করে বলে দাবি করে তিনি বলেন, পুলিশ আমাদের সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করলেও দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো সেই শব্দটি এড়িয়ে যায়। শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেই পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করে, আর সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ যে কাউকে আটক করতে পারে। মালয়েশিয়ার পুলিশ আমাদের আটক করেছিল, গ্রেফতার নয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যে অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, দেশটির আইন অনুযায়ী সে অভিযোগে আটককৃতদের সর্বনিম্ন ১৪ দিন থেকে সর্বোচ্চ ২৮ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। আমাদের ২৮ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল।

তবে এই রিমান্ডে কাউকে মারধর করা হয় না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ২৮ দিনের রিমান্ডে নেয়া হলেও কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। এই রিমান্ডের নিয়ম হচ্ছে, রিমান্ড চলাকালীন সময়ে কোনো আইনজীবী ও আত্মীয়-স্বজন দেখা করতে পারবেন না। একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টির তদন্ত করবেন।

তদন্তের শুধুর দিকেই তাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টিকে ভুয়া বলে বুঝতে পেরেছিলেন বলে উল্লেখ করে মামুন বলেন, তদন্ত শুরুর তিন থেকে চারদিন পর ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের বলেন, আমি এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছি এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি যদি অভিযোগটিকে সত্য বলে ধরেও নেই তবু তা আদালতে প্রমাণ করতে হলে আমাকে তোমাদের সময় দিতে হবে। রিটার্ন টিকিট এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগ আনা যাবে না। তোমাদের মধ্যেই কেউ ষড়যন্ত্র করে এই অভিযোগ দিয়েছে।

যৌথ প্রযোজনার নামে প্রতারণা ও জাল সার্টিফিকেট দিয়ে পরিচালক সমিতির সদস্যপদ নেয়ার অভিযোগে ২০১৫ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি থেকে বাদ পড়া এ নির্মাতা বলেন, এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের বলেন, তোমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তার ভিত্তিতে এখানে তোমাদের ২৮ দিন আটকে রাখা অন্যায় হবে। আমি বিষয়টিকে মামলা হিসেবেও আদালতে দেখাতে পারব না। তোমাদের রিমান্ডের মেয়াদ কমিয়ে ১৪ দিন করা হচ্ছে এবং তোমাদের যেহেতু রিটার্ন টিকিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাই তোমাদের এখন ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে। তারা তোমাদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের অভিযোগের যিনি তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তাকে আমি সংবাদগুলো দেখিয়েছি। তিনি অনুবাদক দিয়ে সংবাদগুলো দেখেছেন এবং বলেছেন, তারা এভাবে বলতে পারে না। তাদের উচিত ছিল সন্দেহভাজন কথাটা উল্লেখ করা। কারণ সন্দেহের ভিত্তিতে আমরা যে কাউকে আটক করতে পারি। অপরাধী হওয়ার আগে পর্যন্ত তোমাকে কেউ অপরাধী বলতে পারবে না।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি হাইকমিশনে দেশটির পুলিশ একটি বার্তা পাঠিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, অনন্য মামুন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করেছেন; দেশের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট সংবাদ।

এদিকে মামুনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার পর তার সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। এ বিষয়ে মামুন বলেন, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আমার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তাদের এটা করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। এখন যেহেতু অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে তাই আমি তাদের কাছে যাব। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানাব।

াআ

Leave a Reply