ফ্যাশনের নতুন বৈচিত্র্য এনেছে ‘কটি’

কামিজের কাট ও নকশার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে এর জিজাইনেও। লং কামিজের প্যাটার্নে সালোয়ার-কামিজে বৈচিত্র্য এনেছে ‘কটি’। একটু আলাদা ডিজাইন আর কাটছাঁটের ভিন্নতায় এসব কটি কামিজ প্রচলিত ধারায় এনেছে নতুনত্বের ছোঁয়া।

আমাদের দেশে কটির প্রচলন অনেক আগে থেকেই। পাশ্চাত্যে স্যুটের সঙ্গে ব্যবহৃত হতো এই কটি। কালের বিবর্তনে এটি এখন ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। যা কামিজের ক্ষেত্রে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

কামিজের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায় লং বা শর্ট হাতার ‘কটি’। হাল ফ্যাশনের এই যুগে প্রায় সব বয়সেই কটি কামিজ পরা যায়। সুতির পাশাপাশি মসলিন, কোটা, হাফসিল্ক, অ্যান্ডির পোশাকে এ ধরনের কটি এনে দিচ্ছে ট্রেন্ডি লুক।

কটির নিচের অংশে কখনো গোল, কখনো তিন কোনা কাটের ছাঁট দেওয়া যায়। আবার ব্লাউজ আকৃতিতে কটিও জুড়ে দেওয়া যায় কামিজের সঙ্গে। কোনোটা লম্বায় একটু বড়, আবার কোনোটা ছোট।

কোনোটার স্টাইলে যোগ হচ্ছে পাথরের বোতাম আবার কোনোটা দেখা যাচ্ছে উঁচু গলার। চাইলে আপনি একটি কামিজের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রঙের বা ডিজাইনের কটি পরতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কামিজের সঙ্গে কটি এটে দেওয়া যাবে না।

স্টুডিও এমদাদের কর্ণধার এমদাদ হক বলেন, ‘কটি একটি বাড়তি পোশাক। এটি কামিজের সাথে লাগানো থাকতে পারে আবার আলাদাও হতে পারে। তবে এটি ভারী কাপড় দিয়ে তৈরি করলে ভালো হয়।

সে ক্ষেত্রে কাতান কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। আবার পাতলা মসলিন দিয়েও বানানো যায়। তবে এ ক্ষেত্রে মসলিনের নিচে আলাদা কাপড় দিতে হবে। পুরনো টাঙ্গাইলের পার, জামদানি শাড়ি দিয়েও কটি বানাতে পারেন।’

এমদাদ হক আরো বলেন, ‘এ ধরনের কটির গলা গোল, হাইনেক বা ভি আকৃতির হতে পারে। চাইলে বিভিন্ন ডিজাইনের বোতামও লাগাতে পারেন। এই কটিগুলো লম্বায় সাধারণত ১৪-১৫ ইঞ্চি, ২২-২৩ ইঞ্চি আবার ৪০ ইঞ্চি পর্যন্তও হতে পারে।’

কটির ক্ষেত্রে বেছে নিন একটু উজ্জ্বল রঙ। এতে কামিজটি হাইলাইট হবে। হতে পারে কামিজের রঙের থেকে একেবারে ভিন্ন রঙ। আবার হতে পারে কামিজের রঙের থেকে এক শেড উজ্জ্বল। যোগ করতে পারেন লেস বা রিবনও। চাইলে শার্ট কলারও দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে গলার সামনে শুধু একটা বোতাম ব্যবহার করে বাকিটা খোলা রাখতে পারেন। কাতান বা ভারী কাজের কাপড় দিয়ে তৈরি করতে পারেন কটি। এ ক্ষেত্রে কামিজটি হতে হবে একদমই প্লেন সিল্ক বা জর্জেটের।

অ্যাথেনা অনলাইন শপের অন্যতম কর্ণধার আসফিয়া শামস বলেন,‘সাধারণত ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীদের কথা চিন্তা করে কটি কামিজ তৈরি করা হয়। কটির ম্যাটেরিয়ালস নির্ভর করে কামিজের ম্যাটেরিয়ালসের ওপর। কামিজের হালকা বা প্লেন কাজের ওপর ভারী কটি ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে সিল্ক, বেলবেট, জারদৌসি ও কারচুপি কাজের কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে।’

কেউ যদি আলাদা করে কটি বানিয়ে নিতে চান তাহলে এক গজ কাপড় কিনে নিজের মনের মতো করে বানিয়ে নিতে পারেন। আর একটু লম্বা কটি পরলে সে ক্ষেত্র কাপড় লাগবে দুই গজ। এ ক্ষেত্র খরচ পড়বে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। কাপড়ের গজের দামের ওপর নির্ভর করবে এর দাম। এ ছাড়া কটি কামিজ আপনি দুই হাজার ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পারবেন।

বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে বিভিন্ন ধরনের কটি কামিজ তৈরি করে। অঞ্জন’স, বিবিয়ানা, স্টুডিও এমদাদে পছন্দের কটি কামিজ পাবেন। অনলাইন শপ অ্যাথেনাতেও আপনি অর্ডার দিতে পারেন। এ ছাড়া স্টিচ ও আনস্টিচ কটি কামিজ কিনতে যেতে পারেন রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মল, ইস্টার্ন প্লাজা, ইস্টার্ন মল্লিকা, রাপা প্লাজা, নিউমার্কেট, গাউসিয়া ও চাঁদনি চকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares