বিদ্যুৎ নিয়ে ডাহা মিথ্যা কথা বলছে সরকার : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে সব সময় ডাহা মিথ্যা কথা বলে এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য নিয়ে তারা জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে। মূলত কুইক রেন্টালের নামে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ করে ক্ষমতাসীনদের আত্মীয় স্বজনদের মোটাতাজাকরণ ছাড়া আর কিছুই উন্নতি হয়নি।

তিনি বলেন, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। শুধু বিপর্যয় বললে ভুল হবে মানুষের জীবন বিপন্ন হতে চলছে। গরমজনিত রোগে হাসপাতালগুলোতে ভিড় বাড়ছে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে সব সময় ডাহা মিথ্যা কথা বলে এসেছে। মূলত কুইক রেন্টালের নামে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ করে ক্ষমতাসীনদের আত্মীয় স্বজনদের মোটাতাজাকরণ ছাড়া আর কিছুই উন্নতি হয়নি।

মঙ্গলবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব বলেন।

লোডশেডিং প্রসঙ্গে বলেন, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল শহরে লোডশেডিং হচ্ছে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীর মতো বড় বড় শহর-নগরেও লোডশেডিং হচ্ছে দফায় দফায়।

এদিকে বিদ্যুৎ সঙ্কটে সারা দেশের মানুষের মধ্যে যখন ত্রাহি দশা, তখন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ওয়েবসাইট দিচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।

পিডিবির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, গতকাল ও এর আগের কয়েকদিন দেশে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন ছিল, উৎপাদিত হয়েছে তার চেয়ে বেশি। তাদের বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়- ২১ মে বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট, উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৮৩০ মেগাওয়াট। ২০ মে চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট; উৎপাদন ৮ হাজার ৮১৯ মেগাওয়াট। ১৯ মে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট; উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৭৫৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দেশের কোথাও কোনো লোডশেডিং নেই বরং চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি। আর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সাংবাদিকদের বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এ মুহূর্তে আমরা দিতে পারব না। এটা হতে আমাদের আরও ৩-৪ বছর লেগে যাবে।

আরইবির কর্তকর্তারা গতকাল বলেছেন রাজধানীর চাহিদা মেটাতে গিয়ে তাদের সরবরাহ অনেকাংশে কাটছাঁট করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ কারণে ঢাকার বাইরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও আরও বেশি। ঢাকাকে আলোকিত রাখতে রাতে বেশির ভাগ গ্রামকে রাখা হচ্ছে অন্ধকারে।

তিনি বলেন, ভর্তুকি দিয়ে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ স্থাপন করে মূলত লুটপাটেরই সুযোগ দেয়া হয়েছে, আর কেটে নেয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের পকেট। অনুন্নোয়নের শরীরে প্রসাধনী মাখলেই উন্নয়ন হয় না। সেটি হয় ধাপ্পাবাজি। আওয়ামী সরকার শুরু থেকেই এ কাজটি করে আসছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলে জনগণের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা বের করে নিয়ে জনগণকে উপহার দেয়া হয়েছে দুর্বিষহ লোডশেডিং। জৈষ্ঠ্যের খরতাপে মানুষের যখন স্বস্তি দরকার তখন এই দীঘক্ষণ লোডশেডিং সরকারের উন্নয়নের জলজ্যান্ত উদাহরণ।

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির ঘটনা দেশ-বিদেশে মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বত্র সরকারের প্রতি চারদিক থেকে ধিক্কার উঠেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আকস্মিকভাবে পুলিশি হানা সরকারের একটি অশুভ নীলনকশারই অংশ।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পুলিশি হানার ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা হতে যাচ্ছে। জনসভা উপলক্ষে বিএনপি ঢাকা মহানগরী ও অঙ্গ সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে অনুমতির জন্য আমরা গণপূর্ত বিভাগ ও পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছি। আজকের মধ্যেই তারা অনুমতি দিবেন বলে জানান তিনি।

Leave a Reply