বিশ্বকাপ তুমি কার?

তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে ইতালির কাছে ফাইনালে হেরেছিল ফরাসিরা।

* অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯১ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর ছয়টি বিশ্বকাপের পাঁচটিতেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ক্রোটরা। ১৯৯৮ সালে বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের অভিষেকেই শেষ চারে পা রেখেছিল তারা। সেবার চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে সেমিফাইনালে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তারা জয় পায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এটাই ছিল চলতি বিশ্বকাপের আগে ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় ক্রোয়েশিয়ার সেরা সাফল্য।

* চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের তিনটি নকআউট ম্যাচেই অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। শেষ ষোলোয় ডেনমার্ক ও কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে জয় আসে টাইব্রেকারে। আর সেমিফাইনালে মারিও মানজুকিচের অতিরিক্ত সময়ের গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব মঞ্চের ফাইনালে জায়গা করে নেয় জ­াতকো দালিচের দল।

* নকআউট পর্বের তিন ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে পুরো ৯০ মিনিট কম খেলেছে ফরাসিরা। দুই ম্যাচের পেনাল্টি শুটআউটের সময় বাদেই ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের তিন ম্যাচে মাঠে থাকতে হয়েছে ৩৬০ মিনিট। বিপরীতে ফাইনালে পৌঁছাতে তিন নকআউট ম্যাচে ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা মাঠে ছিলেন মোট ২৭০ মিনিট।

* দুই জয় ও এক ড্রয়ে ‘সি’ গ্রুপের সেরা হয়ে নকআউট পর্বে পা রাখে ফ্রান্স। শেষ ষোলোয় লাতিন পরাশক্তি আর্জেন্টিনাকে হারানোর পর কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে তারা পেরোয় উরুগুয়ে ও বেলজিয়াম বাধা। প্রতিটি ম্যাচই শেষ হয়েছে ৯০ মিনিটে।

* নকআউট পর্বের তিন ম্যাচে সাতটি গোল করেছে ফ্রান্স, যা তাদের গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচের মোট গোলের (তিনটি) দ্বিগুণের চেয়ে একটি বেশি।

* ফাইনালের আগে ক্রোটদের চেয়ে একদিন বেশি বিশ্রাম পেয়েছে ফরাসিরা। মঙ্গলবার সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারায় তারা। পরদিন ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারায় ক্রোয়েশিয়া।

* দুই বছরের মধ্যে এ নিয়ে দুটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছাল ফ্রান্স। ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে ইউরোর ফাইনালে উঠেছিল দিদিয়ের দেশমের দল। সেবার পর্তুগালের কাছে ১-০ গোলে হার মানতে হয় তাদের।

* সমান দুটি করে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার সর্বোচ্চ গোলদাতা মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ, ফরোয়ার্ড মারিও মানজুকিচ ও ইভান পেরিসিচ। প্রতি ম্যাচে গড়ে দুটি করে গোল করেছে ক্রোয়েশিয়া। এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১২ বার বল জড়িয়েছে তারা। বিপরীতে হজম করেছে পাঁচটি গোল।

* ফাইনালে মাঠে নামলে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (১১টি) খেলার রেকর্ড ভাঙবেন ৩২ বছর বয়সী মডরিচ। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পরিশ্রমী খেলোয়াড় ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক। ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার দৌড়েছেন এই মিডফিল্ডার।

* চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি তিনটি করে গোল করেছেন ফরোয়ার্ড আঁতোয়া গ্রিজমান ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১০ গোল দেয়ার পাশাপাশি ফ্রান্স হজম করেছে চারটি গোল।

* সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত দুই দলের দেখা হয়েছে পাঁচবার। একবারও ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। ফরাসিদের তিন জয়ের সঙ্গে দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ওয়েবসাইট।

Leave a Reply