ব্রণ দূরীকরণে খাবার

ব্রণ যে কোনো একজন মানুষের জন্যই আতঙ্কের বিষয়। সাধারণত কৈশোরকালে মানুষ এ সমস্যায় বেশি ভুগে থাকে। যেকোনো শারীরিক সমস্যা, হরমোনাল সমস্যা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকা কিংবা প্রসাধনীর কারণে ব্রণ হতে পারে। তবে ব্রণ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো খাদ্যাভ্যাস। পুষ্টিকর খাবারের অভাবেও যে ব্রণ হতে পারে এটা অনেকেরই অজানা।

ব্রণ দূর করতে চাইলে প্রথমে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। খাবার তালিকায় অবশ্যই নিম্নোক্ত খাবারগুলো রাখতে হবে। ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার : সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কিডনিবিলস। ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবার : ঢেকিছাঁটা চাল, লাল আটা, গাড় সবুজ শাকসবজি, মটরশুঁটি, বাদাম, কলা, ছোলা। বিটা ক্যারোটিনযুক্ত খাবার : গাজর, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, বেলপেপার। ভিটামিন সিযুক্ত খাবার : লেবু, কমলা, মালটা, পেঁপে, তরমুজ, স্ট্রবেরি, ব্রুকলি, ক্যাপসিকাম। টমেটোতেও প্রচুর ভিটামিন সি এবং বায়োফ্ল্যাভনয়েডস থাকে যা আমাদের ত্বকের কোষকে সুস্থ করে দ্রুত ব্রণের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।

জিঙ্কযুক্ত খাবার : বাদাম, ডিম, দুগ্ধ জাতীয় খাবার, বীজ, ডাল, মটরশুঁটি, অ্যাভোকাডো, খেজুর, কিউই, বেরিস। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার : গ্রিনটি, কাঁচা হলুদ, রসুন খাওয়া যেতে পারে। এগুলো উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার। দিনে ২ বার গ্রিনটি খেতে পারেন। সকালে খালিপেটে রসুন বা কাঁচা হলুদ কুচি পানি দিয়ে গিলে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এগুলো দ্রুত ব্রণ সারাতে সহায়ক।

এছাড়াও শসার জুস ও অ্যালোভেরা জেল ব্রণের জন্য খুব উপকারী। সয়াবিন, ফ্ল্যাক্সসিড, সরিষার বিচি এবং টক দইও খাবার তালিকায় রাখা উচিত। অতিরিক্ত ব্রণ থাকলে কখনই গ্লুটেন আছে এমন খাবার যেমন পাউরুটি, সাদা আটার রুটি, পাস্তা খাওয়া যাবে না। আলুর চিপস, চকোলেট, আনারস, ফাস্টফুড এবং ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে ব্রণ দূর করে সহজেই আমরা হতে পারব সুন্দর ও মসৃণ ত্বকের অধিকারী।

লেখক : পুষ্টিবিদ।