ভেনেজুয়েলায় পানির খোঁজে নর্দমায় মানুষের ভিড়

টানা পাঁচ দিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভেনেজুয়েলার নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পানির খোঁজে নগরবাসী পয়ঃনিষ্কাশনের নালার প্রান্তে ভিড় করছে।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা ছোট্ট নদী গুয়েইরা। নগরীর পয়ঃনিষ্কাশনে নালার সব পানি সেখানে পড়ায় নদীটির পানি কুচকুচে কালো বর্ণের এবং দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে।

কারাকাসের প্রধান সড়কের পাশে যেখানে নদর্মার পানি গুয়েইরা নদীতে পড়ছে সেখানে ভিড় করে লোকজন সেই পানি বড় বড় প্লাস্টিকের বোতলে সংগ্রহ করছে।

নদীর পানির তুলনায় নদর্মা বেয়ে আসা ওই পানি অপেক্ষকৃত পরিষ্কার দেখা যাওয়ায় সেই পানিই সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা।

সোমবার ওই ভিড়ের মধ্যে লিলিবেথ টেজেডর নামে এক নারী নর্দমার পানি সংগ্রহ করছিলেন।

তিনি বলেন, “আমি জীবনে কখনো এমন কাণ্ড ঘটতে পর্যন্ত দেখিনি। এটা ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর।”

কারাকাস উপকণ্ঠে সান আগুস্টিয়ানের এই বাসিন্দা ছোট একটি বোতল কেটে সেটা দিয়ে নদর্মার পানি ধরে চার গ্যালনের একটি জার ভরছিলেন।

২৮ বছরের টেজেডর একটি কম্পিউটার প্রযুক্তি স্টোরে কাজ করেন। তার ‍দুই বছর বয়সের একটি মেয়ে আছে। এছাড়া নিজের দুই ভাতিজি তার সঙ্গে থাকে।

“আমাদের এখানে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে শিশুরা। আপনি কিভাবে একটি শিশুকে বোঝাবেন যে সেখানে কোনো পানি নেই?”

বাধ্য হয়েই তিনি তাই নর্দমার নোংরা পানি সংগ্রহ করছেন বলে জানান ওই নারী।

যদিও ভিড় করা লোকজনের দাবি, এটা নর্দমার পানি নয়। বরং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রিজার্ভার থেকে নালায় পানি ছাড়ছে।

তবে যেহেতু এটা নর্দমার নালা দিয়ে আসছে তাই তারা এ পানি শৌচাগার পরিষ্কার করতে এবং ঘরের মেঝে মোছার কাজে লাগাবে।

ভেনেজুয়েলা জুড়ে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফরে যেসব কারণে প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার জোগাড় হয়েছে তার অন্যতম হলো পানির অভাব।

যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের কারণে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলে অভিযোগ দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর। অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ এর পেছনে সরকারের দুর্নীতি ও অযোগ্যতাকে দায়ী করছে।

কারাকাসে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২০ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন পড়ে বলে জানান প্রকৌশলী হোসে দে ভিয়ানা। ১৯৯০ সাল থেকে তিনি রাজধানীর পৌর পানি কর্তৃপক্ষের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে তারা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৩ হাজার লিটার পানির যোগান দিতে পেরেছিলেন।

“কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হওয়ার পর সব কিছু বন্ধ হয়ে গেছে।”

সুপেয় পানির অভাবে ভেনেজুয়েলায় রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেখানে সাবানও পাওয়া যাচ্ছে না, যাও বা পাওয়া যায় তার দামও আকাশছোঁয়া।

রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় অচল হয়ে পড়া ভেনেজুয়েলার বাসিন্দারা এখন একটি স্বাভাবিক জীবন পেতে মরিয়া।

পানির দাবিতে সড়ক অবরোধ করা ৫২ বছরের গৃহিনী গ্লাডিস মার্টিনেজ বলেন, “তারা আমাদের ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় মেরে ফেলছে।”

হোসে ভেলেজ নামে এক নিরাপত্তা রক্ষীও গুয়েইরা নদীর পাড়ে পানি সংগ্রহ করছেন।

তিনি বলেন, “এইসব রাজনীতিবীদদের নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তারা কখনো কোনো একটি বিষয়ে একমত হয়ে পারবে না। আমি শুধু স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।”