‘মইন উ আহমেদই খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলার রূপকার’

সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা মামলার রূপকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানির সময় বুধবার আদালতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুটি দুর্নীতি মামলার বিচারকার্য চলছে।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর খালেদা জিয়ার চতুর্থ আইনজীবী হিসেবে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার। এসময় খালেদার রাজনৈতিক জীবন ধ্বংসের জন্য মিথ্যা মামলা করা হয়েছে দাবি করেন তিনি।

যুক্তিতর্কের শুনানির সময় বারবার তিনি সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, মাইনাস টু থিওরির অংশ হিসেবে খালেদার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে দুদক। অনেক কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে মইন উ আহমেদকে বিএনপির সরকারই সেনাপ্রধান করেছিলেন বলেও আদালতকে জানান সাবেক এই স্পিকার। সাবেক সেনাপ্রধানই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা মামলার রূপকার ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশীদসহ ৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন।

খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, কোনো সাক্ষীই বলেননি খালেদা জিয়া কোনো ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। টাকা হস্তান্তরের কোনো কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর নেই। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সঙ্গে কোনোভাবে তিনি জড়িত নন।

আংশিক যুক্তি উপস্থাপন শেষে শুনানি মুলতবি করা হয়। বৃহস্পতিবার ফের তার অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নথি জালিয়াতি ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ এনে তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ছয় সাক্ষীর শাস্তি চান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ ছয়জন হলেন- মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মাজেদ আলী ও আবদুল বারেক ভূঁইয়া, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তফা কামাল মজুমদার এবং বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক তৌহিদুর রহমান খান।

এ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী বুধবার আদালতে এ লিখিত আবেদন দাখিল করেন। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান আবেদনটি গ্রহণ করে নথিভুক্ত করেন।

বুধবার বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে খালেদা জিয়া বকশীবাজার মাঠে স্থাপিত এ আদালতে আসেন। এর আট মিনিট পর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এজলাসে বসেন। শুরুতেই বিচারক খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের কাছে দেরিতে আসার কারণ জানতে চান। এ পর্যায়ে উষ্মা প্রকাশ করে বিচারক বলেন, এটা আদালত। কেন ১২টার সময় আদালত শুরু করতে হবে? এত দেরি করে এলে হবে না। আমি কিন্তু এরপর ১০টার মধ্যে এজলাসে উঠে যাব এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত শুনানি হবে। কে এলো কে এলো না, আমি এটা দেখব না।

এ পর্যায়ে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আজ না হয় দেরি হয়েছে, বাকি কথাগুলো বলতে পারেন না। পরে বিচারক বলেন, আপনি তো ১০টায় এসেছেন। সাড়ে ১০টায় যদি আসতেন তাহলে আরও দেড় ঘণ্টা কথা বলতে পারতেন। আমার তো আরও আসামি আছে। আদালতের সময় সাড়ে ১০টায়। আমি ১২টায় উঠব না।

এ সময় খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা মার্শাল ল’ কোর্ট দেখেছি, ওয়ান-ইলেভেন দেখেছি, প্রধান বিচারপতির আদালতও দেখেছি। এভাবে কোনো বিচারক কথা বলেন না। একদিন না হয় একটু দেরিই হয়েছে। আসামির বয়স, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা উচিত।

এ সময় বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিচারক তাদের সতর্ক করে বলেন, এরকম হৈচৈ করলে বিচারকাজ মুলতবি করে দেব। আট দিন ধরে চলতে থাকা যুক্তিতর্ক আদালত শেষ করতে বললে, এ নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হৈচৈ শুরু করেন। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে যুক্তিতর্ক তুলে ধরতে। যতক্ষণ প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আমাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হবে, ততক্ষণ অনুগ্রহ করে আমাদের সময় দেবেন। এর পরই পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এর পর যুক্তি উপস্থাপন শুরু হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুরুতেই বিচারককে বলেন, তারা তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করতে চান। বিচারক বলেন, আগে যুক্তিতর্ক শেষ হোক, পরে আবেদন। এরপর এ জে মোহাম্মদ আলী যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে সূরা মায়েদা ইংরেজিতে তরজমা করে বেলা ১টা ২৫ মিনিটে শেষ করেন।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর খালেদা জিয়ার চতুর্থ আইনজীবী হিসেবে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার। খালেদার রাজনৈতিক জীবন ধ্বংসের জন্য মিথ্যা মামলা করা হয়েছে দাবি করেন তিনি। যুক্তিতর্কের শুনানির সময় বারবার তিনি সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, মাইনাস টু থিওরির অংশ হিসেবে খালেদার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে দুদক। অনেক কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে মইন উ আহমেদকে বিএনপির সরকারই সেনাপ্রধান করেছিলেন বলেও আদালতকে জানান সাবেক এই স্পিকার। সাবেক সেনাপ্রধানই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা মামলার রূপকার ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশীদসহ ৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন। খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, কোনো সাক্ষীই বলেননি খালেদা জিয়া কোনো ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। টাকা হস্তান্তরের কোনো কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর নেই। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সঙ্গে কোনোভাবে তিনি জড়িত নন। আংশিক যুক্তি উপস্থাপন শেষে শুনানি মুলতবি করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ফের তার অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। বিকেল ৩টা ১২ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া আদালত এলাকা ত্যাগ করেন।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *