মসুর ডালের ব্যতিক্রমী ব্যবহার

মুসর ডাল পুষ্টিগুণে ভরপুর। মসুর ডাল শুধু সুস্বাদুই নয় এটি আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। খনিজ পদার্থ, আঁশ, খাদ্যশক্তি, আমিষ, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ক্যারোটিন, ভিটামিন বি-২ ও শর্করা ইত্যাদি রয়েছে মসুর ডালে। খাওয়ার পাশাপাশি মসুর ডাল ব্যবহার করা হয় রূপচর্চার কাজে। চলুন জেনে নেই মসুর ডালের আরো কিছু ব্যতিক্রমী ব্যবহার।

খুশকি, ময়লা, ফাঙ্গাসের আক্রমণ ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে মাথার ত্বক চুলকাতে থাকে। মসুর ডাল বেটে চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে। আধা ঘণ্টা রেখে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। চুল ঝলমলে করে তুলতে চাইলে মাথার ত্বকসহ পুরো চুলেই মসুর ডাল বেটে লাগাতে হবে। আধা ঘণ্টা রেখে চুল ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। ফলাফল দেখে চমকে যাবেন।

মসুর ডাল রাতে দুধের মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন। সকাল বেলায় ডালটা পিষে মুখে লাগান। রোজ যদি মুখে এই প্যাকটা লাগান আপনার চেহারায় কালো ভাবটা দূর হয়ে যাবে। তবে মনে রাখবেন, ডালটা রোজ তাজা তাজা পিষতে হবে আর কাঁচা দুধ ব্যবহার করবেন।

পায়ের পাতা বা আঙুলের কালচে, হাঁটু, পায়ের গোড়ালির ময়লা ও রুক্ষভাব দূর করতে প্রাচীনকাল থেকে মসুর ডাল বাটা, হলুদ বাটা, লেবুর রস বা লেবুর খোসার ব্যবহার হয়ে আসছে। মসুর ডাল বাটা, হলুদ বাটা, লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে পায়ের পাতায় লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।

মসুর ডাল পিষে তার মধ্যে মধু এবং দই মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বক সতেজ হবে।

দুধে মসুর ডাল ভিজিয়ে রাখুন, পরে পাটাই বেটে নিন। মসুর ডাল বাটা, হলুদ বাটা, পালংশাক বাটা, টমেটোর রস, সূর্যমুখীর তেল একসঙ্গে মিশিয়ে কনুইয়ে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

বলিরেখা দূর করতে কাঁচা হলুদের সাথে মসুর ডাল বাটা দুধের সর মিশিয়ে মুখে মাখুন ফেস প্যাক হিসাবে। নিয়মিত লাগালে অবশ্যই দারুণ উপকার পাবেন।

মেছতার বিশ্রী দাগ একবার ত্বকে দেখা দিলে তা বাড়তেই থাকে। মসুর ডাল ভিজিয়ে রেখে বেটে নিতে হবে। এর সাথে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে। মিশ্রণটি মেছতার ওপর লাগিয়ে রাখতে হবে আধা ঘণ্টা ধরে। এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগ দূর হবে।

ব্রণ, বসন্ত, ফোঁড়া, ঘা বা যেকোনো ধরনের ক্ষতের দাগ দূর করতে সাহায্য করে মসুর ডাল। আক্রান্ত স্থান ভালো করে শুকাবার আগেই তা ব্যবহার করলে ভালো ফল দেয়। মসুর ডাল বাটা ও কচি ডাবের পানি একসাথে মিশিয়ে দাগের ওপর পুরু প্রলেপ দিতে হবে। শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। এরপর ঘষে ঘষে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত ব্যবহারে যেকোনো ধরনের ক্ষতের দাগ দূর হয়ে যাবে।

আবহাওয়া বা চর্মরোগের কারণে ত্বক ফেটে গেলে তা সারাতেও মসুর ডালের জুড়ি নেই। মসুর ডাল মিহি করে বেটে নিয়ে ত্বকে পুরু করে প্রলেপ লাগিয়ে রেখে। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। পায়ের গোড়ালি ফাটা সারাতেও একইভাবে মসুর ডাল ব্যবহার করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares