মাঝ নদীতে চলছে মাদক, জুয়া ও দেহ ব্যবসা (ছবিসহ)

রাজধানীর সদরঘাটের কাছাকাছি ফরাশঘাট। প্রতি মাসের যেকোন এক শুক্রবার ফরাশঘাট থেকে গন্তব্যহীন উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় একটি লঞ্চ। এ লঞ্চের উদ্দেশ্য মাদক, জুয়া ও দেহ ব্যবসা। লঞ্চটি পানিতে ভাসে আর ভিতরে চলে রামলীলা। এ লঞ্চটি কোথাও ঘাট দেয় না। এটি চাঁদপুর বা মোহনগঞ্জের আশপাশ এলাকা ঘুরে ফের ফরাশঘাটে এসে থামেন।

বেসরকারি টেলিভিশন ইন্ডিপেন্ডেন্ট’র অনুসন্ধান মূলক অনুষ্ঠান তালাশের একটি পর্বে এমন বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

গন্তব্যহীন এ লঞ্চটির নাম দুলারচর-১। দালালদের সহযোগিতা ছাড়া এই লঞ্চে উঠতে পারে না কেউ। বিশেষ এই লঞ্চটিকে ঘিরে কাজ করছে একটি দালাল চক্র। এদের মধ্যে কেউ লঞ্চ ভাড়া করেন, কেউ খদ্দেরের যোগার দেন। কেউ বা আবার নিয়ে সুন্দরী নারীদের।

বিশেষ এই লঞ্চের প্রতিটি কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। তথ্য সংগ্রহের জন্য তালাশের একটি টিম খদ্দের সেজে মাসুদ নামের এক দালালের মাধ্যমে লঞ্চে ওঠেন। তালাশ টিমের কাছ থেকে দালাল মাসুদ লঞ্চে ওঠার জন্য দরকষাকষি করে ৩১০০টাকা নেন।

প্রতি শুক্রুবারে দুলারচর-১ লঞ্চের সামনে দেখা মেলে অনেক যাত্রীর। তবে এই লঞ্চের বেশির ভাগ যাত্রীই বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। মাদক, জুয়া ও নারী নিয়ে ফূর্তি করতেই এই লঞ্চে ওঠেন তারা।

বিশেষ এই লঞ্চে আগে থেকেই কোন নারী উপস্থিত থাকেন না। লঞ্চ ছেড়ে একটু সামনে যাওয়ার পর ছোট ছোট কিছু নৌকা থেকে লঞ্চে ওঠেন নারীরা। এদের মধ্যে রয়েছে কিশোরী, যুবতী ও মাঝ বয়সী নারী।

দেখা যায়, প্রতিটি কেবিনের সামনে লম্বা লাইন, একের পর এক ভিতরে ঢুকছে আর বের হচ্ছে। শুধু দেহ ব্যবসাতেই থেমে নেই। সাথে রয়েছে মদ, গাজা ও ইয়াবাসহ সকল ধরনের নেশা।

দুলারচর-১ এই লঞ্চের মুল আয়োজক মাহফুজ নামে একজন। তার নেতৃতে চলে জুয়ার আসর। অন্য দিকে শাকিল নামের একজনের নেতৃত্বে চলে দেহ ব্যবসা চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *