মিলিয়ন ডলারে কানাডার গ্রীণকার্ডের সুযোগ

মিলিয়ন ডলারে কানাডার গ্রীণকার্ড পাবার বিশেষ একটি কর্মসূচি শীঘ্রই ঘোষণা করা হচ্ছে। আসছে ফেব্রুয়ারিতেই এই কর্মসূচি চালু হতে পারে বলে অটোয়া প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালসহ শীর্ষস্থানীয় মিডিয়াগুলোও এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।

কানাডা কারেন্সিতে কমপক্ষে এক মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেই স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ আসবে ওই কর্মসূচি ঘোষণার পর। ইউরোপের অনেক দেশ এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের নিজ দেশে টানছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এ ধরনের কর্মসূচি রয়েছে। ভ্যাঞ্চুর-ক্যাপিটল ফান্ডের (ভিসি ফান্ড) আওতায় এক মিলিয়ন থেকে দুই মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সৃষ্টির পর ওই ব্যবসায়ী আরো বহু অর্থ বিনিয়োগ করবেন বলে আশা করছে কানাডার নীতি-নির্দ্ধারকরা।

উল্লেখ্য যে, বিনিয়োগের মাধ্যমে ইমিগ্র্যান্ট হবার কর্মসূচি গত ফেব্রুয়ারিতে বাতিল করে কানাডা। একইসাথে বিনিয়োগের মাধ্যমে কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা হতে আগ্রহী অসংখ্য চায়নিজের আবেদনও বাতিল করা হয়। এর ফলে অনেকে আশংকা প্রকাশ করেন যে, কানাডা চায়নিজদের স্বাগত জানাতে আগ্রহী নয়। এমনকি, কানাডায় চায়নিজ মালিকানাধীন একটি তেল কোম্পানিও বন্ধ করা হয়েছে এ বছর।

অটোয়া প্রশাসন অবশ্য এ ধারণাকে অমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, কানাডার যে কোন প্রদেশের ভিসি ফান্ডে ৮ লাখ ডলার দিতে হবে, যা ৫ বছর পর্যন্ত সুদহীন বিবেচিত হবে এবং বিনিয়োগের এ অর্থে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এ ব্যবস্থায় কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসে বিদেশিরা আকৃষ্ট হবেন। কারণ এতে ঝুঁকির কোন ব্যাপার নেই। এর ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হবে। উল্লেখ্য যে, ধনী ৭ দেশ নিয়ে গঠিত ‘গ্রুপ-সেভেন’র মধ্যে কানাডা সবচেয়ে বেশি বিদেশিকে স্বাগত জানাচ্ছে বলেও অটোয়া প্রশাসন দাবি করেছে।

নতুন কর্মসূচি প্রসঙ্গে কানাডার ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ক্রিস আলেক্সান্দার বলেছেন, নয়া এ কর্মসূচি নিয়ে এখনও আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। সবকিছু যাচাইয়ের পরই তা ঘোষণা করা হবে।

এ কর্মসূচিতে ৪০০ মিলিয়ন কানাডিয় ডলারের তহবিল গড়ার লক্ষ্য স্থির করা হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, পশ্চিমের অন্য দেশগুলো নাগরিকত্ব প্রদানের সুযোগ দিচ্ছে বিনিয়োগের বিনিময়ে। যুক্তরাজ্যের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়া যায় জিবিপি ২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলে। আগে ইউরোপের পর্তুগাল, স্পেন, গ্রীস এবং সাইপ্রাসে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়া হতো আড়াই লাখ ইউরো থাকলে অথবা বাড়ি ক্রয় করলে। গত মাসে অস্ট্রেলিয়া নয়া একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ( ১৩.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করলেই ১২ মাসের মধ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *