মুশফিকের কাছে হেরে গেল কুমিল্লা

থিসারা পেরেরা ঝড় তুলেছিলেন শেষে, তাতেই পাহাড় গড়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। চিটাগং ভাইকিংস ঝড়টা ধরে রেখেছে পুরোটা সময়। মুশফিকের ৭৫ রানের অসাধারণ এক ইনিংসের কাছে হার মেনেছেন পেরেরা। ১৮৪ রান তাড়া করে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতেছে চিটাগং। ২ বল হাতে রেখে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেছেন গতকালের সুপার ওভারের নায়ক রবি ফ্রাইলিঙ্ক।

মোহাম্মদ শেহজাদের শটগুলো ক্রিকেটীয় সংজ্ঞায় ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। সহজ বাংলায় বলতে চাইলে কার্যকরী। এই কার্যকরী ব্যাটিংয়ের পতাকা উড়িয়ে আজও ব্যাট ঘোরালেন সমানে এই আফগান। কোনোটা ব্যাটে লেগেছে, কোনোটা লাগেনি। কিছু সোজা সীমানায় গেছে, কিছু আবার ফিল্ডারদের দুঃখ বাড়িয়ে একটুর জন্য নাগালের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। এমন সব শট খেলেই ৬ চার ও ২ ছক্কা মারলেন শেহজাদ। ২৭ বলে ৪৬ করে আউট হলেন শহীদ আফ্রিদির বলে। অন্য প্রান্তে ব্যাটসম্যানদের নিষ্প্রাণ ব্যাটিংয়ের পরও তাই ৮ ওভারে ৭০ রান তুলে ফেলেছিল চিটাগং।

দলের রান তাড়ার বাকি দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। শেহজাদ বাদে একমাত্র অধিনায়কই টি-টোয়েন্টির মেজাজে খেললেন। দলের প্রথন ছয় ব্যাটসম্যানদের বাকি সবাই যে এক শর বেশি স্ট্রাইক রেটে রানই করতে পারলেন না। ১৩তম ওভারে পেরেরার বলে ২১ রান দিয়ে ম্যাচের গতি পরিবর্তন মুশফিকই করলেন।

১৮তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা মেরেছিলেন মুশফিক। সেটা কী বুঝে নো বল দিলেন না আম্পায়ার নাদির শাহ সেটা বোঝা গেল না। মুশফিক বেশ কিছুক্ষণ তর্ক করেও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি আম্পায়াররা। অবশ্য সেটা ক্রিকেটীয় আইনে সম্ভবও নয়। একটি বাড়তি রান ও বাড়তি বল হাতছাড়া হলো চিটাগংয়ের। সে ছক্কাতেই লক্ষ্যটা ১৭ বলে ৩২ রানে নেমে এল চিটাগংয়ের। আগের ওভারেই ৩০ বলে ফিফটি ছোঁয়া মুশফিকের কাঁধেই পুরো দলের ভার। রবি ফ্রাইলিঙ্কের মতো ব্যাটসম্যানের আগে মোসাদ্দেককে নামানোর যুক্তি তখনো পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে মোসাদ্দেক বোঝালেন, ব্যাটিং এখনো ভোলেননি তিনি। ষষ্ঠ বলে আম্পায়ারের আরেকটা ভুল আরও ভয়ংকর হয়ে দাঁড়াল। স্কুপ করে চার মেরেছিলেন মুশফিক। সেটা আম্পায়ার দিলেন এলবিডব্লু। রিভিউ নিয়ে সে সিদ্ধান্ত বদলানো গেল কিন্তু ৪ রান ফেরত পেল না তারা।

দুই ওভারে ২৪ রান দরকার ছিল ভাইকিংসদের। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে মোসাদ্দেক আউট হয়ে দুঃখ আরও বেশি বাড়ালেন। তবে সাইফউদ্দীন পরের বলেই নো বল দিলেন। মুশফিক সে বলে চার মারলেও ফ্রি হিটে কিছু হলো না। ওভারের চতুর্থ বলে আগের ওভারের দেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের শোধ দিলেন আম্পায়াররা। এবার নো বল না হওয়া বলটাই নো দিলেন আম্পায়ার। পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে মুশফিক সমীকরণ বানিয়ে দিলেন ৭ বলে ৭ বলে। পরের বলেই আউট মুশফিক! ৪১ বলে ৭৫ রান করে আউট হলেন অধিনায়ক। ৭ চার ও ৪ ছক্কার ইনিংস শেষ হতেই আবার জমে উঠল ম্যাচ।

আউট হওয়ার আগে আরেকটা কাজ করেছেন মুশফিক। দৌড়াতে গিয়ে যখন দেখেছেন আউট হচ্ছেন তখন আর ক্রিজের অর্ধেক পার হননি, ফ্রাইলিঙ্ক যেন পরের ওভারে স্ট্রাইক পান সেটা নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু লিয়াম ডসনের প্রথম বলটাই ডট দিলেন ফ্রাইলিঙ্ক। দ্বিতীয় বলে এক রান। চতুর্থ বলে স্ট্রাইক পেতেই আর দেরি করেননি। মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে শেষ করেছেন সব উত্তেজনার। ফিল্ডারের হাতের নাগালের একটু ওপর দিয়ে মারা সে ছক্কা যেন নাটকীয় ম্যাচের শেষ তুলির আঁচড়।