মৃত নারীর অঙ্গ প্রতিস্থাপনে প্রাণ পেল তিনজন!

অঞ্জনা ভৌমিক। ৪৯ বয়সী এই নারী হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের বাসিন্দা। রবিবার দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর তার আচমকা বমি হতে শুরু করে। সে সময় বমির সঙ্গে ক্রমাগত রক্তক্ষরণও হচ্ছিল। তার স্বামী সন্তোষ ভৌমিক পেশায় চিকিৎসক। বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় স্ত্রীকে এলাকারই একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি।

সেখানে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে সংজ্ঞা হারান তিনি।
পরে সোমবার বিকেলে তাকে নারায়ণা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আইসিইউতে রাখা হয় অঞ্জনাদেবীকে। ক্রমশ অসাড় হতে থাকেন তিনি। চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন আর বেঁচে থাকার আশা নেই।

‘ব্রেন সেল স্ট্রোক’-এর শিকার হন অঞ্জনাদেবী। ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা করার আগে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন চিকিৎসকরা।

জানানো হয়, অঞ্জনাদেবীর শরীরের একাধিক অঙ্গ সচল রয়েছে। পরিবার সম্মতি দিলে তা প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে অন্য কারও দেহে।

এর মধ্য দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে ফের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের নজির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এক মৃত নারীর বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে যাবেন তিন জন লোক। ইতোমধ্যে হাওড়ার নারায়ণা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল থেকে ওই মৃত নারীর হার্ট এবং কিডনি গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে । তার অপর কিডনিটি হাওড়ার অন্য একটি হাসপাতালে প্রতিস্থাপিত হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে অঞ্জনাদেবীর দুই মেয়ের কাছে খবর পাঠানো হয়। তারাও চান মুমূর্ষু লোকেরা মায়ের অঙ্গে প্রাণ ফিরে পাক । এরপরেই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

নায়ারণা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের পক্ষ থেকে শুভাশিস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বুধবার ভোরে গ্রিন করিডর করে হাওড়া থেকে এসএসকেএমে নিয়ে আসা হয়েছে একটি কিডনি এবং হার্ট। অপর একটি কিডনি ও লিভারের জন্য উপযুক্ত গ্রহীতা খোঁজা হচ্ছে। খুঁজে পেলেই সেই অঙ্গগুলিও দান করা হবে।