যে কারণে গ্রেফতার হিরো আলম

সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে আলোচনায় আসা আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১০টার দিকে তাকে বগুড়া সদর থানা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি সোহেল রানা।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, হিরো আলমের মারধরে স্ত্রী আহত হওয়ায় বগুড়া সদর থানায় তার নামে অভিযোগ দায়ের করেন তার শ্বশুর। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে হিরো আলমকে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিরো আলমের স্ত্রী সাদিয়া বেগম সুমি জানান, দুই মাস পর গত সোমবার রাতে হিরো আলম বগুড়া শহরতলীর এরুলিয়া গ্রামে তার বাড়িতে আসেন। বাসায় ফেরার পর থেকে বিছানায় শুয়ে একটানা তিন ঘণ্টা মোবাইলে ঢাকার এক নারীর সঙ্গে কথা বলেন। এর প্রতিবাদ করলে সোমবার রাতেই তাকে মারপিট করেন হিরো আলম।
এদিকে, সুমিকে মারপিটের খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে হিরো আলমকেও মারপিট করেন। এ ঘটনায় হিরো আলম তার শ্বশুর ও স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মেয়েকে পেটানোর ব্যাপারে হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মেয়েকে আবারও নির্যাতন করা হয়েছে, এমন খবর পেয়ে মেয়ের বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করি। সুমির মাথার পেছনে রক্তাক্ত জখম হয়েছে।

সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম জানান, মঙ্গলবার রাতে হিরো আলম থানায় হাজির হয়ে তার শরীরে মারপিটের চিহ্ন দেখান। তাকে মারপিট করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বুধবার সকালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন হিরো আলমও তার স্ত্রীকে মারপিট করেছেন। এ কারণে তার স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ব্যাপারে হিরো আলম জানান, তার বিরুদ্ধে সব মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে হিরো থেকে জিরো করতে এসব মিথ্যা ঘটনা সাজানো হচ্ছে।