রঙ ফর্সাকারী ক্রিমে ফর্সার বদলে হতে পারে ক্যানসার

কে চাই না নিজেকে সুন্দরভাবে দেখাতে। তাইতো সবার কাছে নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চেষ্টার কমতি থাকে না। এই চেষ্টায় আমরা অধিকাংশসময় বেছে নিয়ে থাকি রঙ ফর্সাকারী ক্রিমগুলো। যেটি ব্যবহারের ফলে আমাদের যে ক্ষতি হচ্ছে তা আমরা অনেকেই অবগত নই। তাইতো বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গায়ের রঙ ফর্সা করার ক্রিম ব্যবহারের ফলে ফর্সার বদলে হতে পারে ক্যানসার মতো রোগ।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গবেষক সব্যসাচী সরকার তুলে ধরেছেন এমনই তথ্য। ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র রসায়ন বিভাগের শিক্ষক সব্যসাচী অ্যাপ্লায়েড ন্যানো সায়েন্স পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রবন্ধে লিখেছেন, একাধিক ফর্সা হওয়ার ক্রিমে উপাদান হিসেবে অ্যাক্টিভ কার্বন থাকে। যে কোনও জৈবিক পদার্থ পুড়িয়ে, তার থেকে অ্যাক্টিভ কার্বন পাওয়া যায়। কিন্তু ফর্সা হওয়ার ক্রিমে ব্যবহৃত অ্যাক্টিভ কার্বন কিংবা মাইক্রো কার্বনের মধ্যে ‘ন্যানো কার্বন’ থাকে। এই ন্যানো কার্বন আলো এবং হাওয়ার সংস্পর্শে ‘অ্যাক্টিভ অক্সিজেন’-এ রূপান্তরিত হয়। যা চামড়ার পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। কারণ, এই রাসায়নিক উপাদান কোষ মেরে ফেলে। অ্যাক্টিভ অক্সিজেনের প্রতিক্রিয়ায় চামড়ায় ক্যানসারের মতো রোগ দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার বহুল ব্যবহৃত ফর্সা হওয়ার ক্রিমে যে অ্যাক্টিভ কার্বন ব্যবহার করা হয়, সেই উপাদানের সাহায্যে পানি পরিষ্কার কিংবা গুড় থেকে চিনি বের করা হয়। কিন্তু ক্রিমের ব্যবহার বাড়াতে পারে বিপদ। পাশাপাশি যে সব ক্রিম ব্যবহারে ফর্সা হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে সেগুলিও ভ্রান্ত বলেই তাদের মত। কোনও ক্রিমের সাহায্যে ত্বকের রং পরিবর্তন সম্ভব নয়। কোনও ক্রিম ব্যবহার করে ফর্সা হওয়া যায় না। এর কোনও বৈজ্ঞানিক সত্যতা নেই। বরং বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মুখ ব্যবহার করে কিছু কোম্পানি মানুষকে বিভ্রান্ত করে। দীর্ঘ দিন এই ধরনের ক্রিম ব্যবহারের ফল হয় বিপজ্জনক। এর জেরে নানা চর্মরোগ দেখা দেয়।’

পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক সঞ্জয় ঘোষের বলছেন, ‘দেহের কিছু অংশ সূর্যরশ্মির স্পর্শে আসে না। তাই সেই অংশের রং সূর্যরশ্মির স্পর্শে আসা ত্বকের রঙের তুলনায় বেশি উজ্জ্বল হয়। সূর্যরশ্মির স্পর্শে আসা ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে কিছু সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু কোনও ক্রিম ত্বককে ফর্সা করতে পারে না। যদি কোনও ক্রিমের বিজ্ঞাপনে কোনও ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের কথা বলা হয়, তা হলে সেটা কখনই ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চামড়ায় কোনও ক্রিমের ব্যবহার দেহের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘ দিন ধরে এই ধরনের ক্রিমের ব্যবহারের জেরে নানা অ্যালার্জিও দেখা দিতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares