রাজধানীর ২৩ হাট থেকে আসবে ২০ কোটি টাকা রাজস্ব

আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাজধানীতে একটি স্থায়ীসহ সর্বমোটি ২৪টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। যার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৭টি অস্থায়ী হাট বসবে। অস্থায়ী হাটগুলো থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে দুই সিটি করপোরেশনের।

দরপত্র ছাড়াই রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে হাট ইজারার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নগরবাসীর সুবিধার্থেই হাটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রাও পূরণের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিএসসিসি ইজারার মাধ্যমে ৯টি এবং খাস আদায়ের মাধ্যমে ৭টিসহ সর্বমোট ১৬টি হাট বসাচ্ছে। ইজারা দেয়া হাটগুলো থেকে ৬ কোটি ২৯ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব পাবে ডিএসসিসি। এর থেকে ২০ শতাংশ বিভিন্ন চার্জ কেটে ডিএসসিসি পাবে ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার মতো। দরপত্র ছাড়া ইজারা পাওয়া বংশালের সামসাবাদ মাঠের আশপাশের হাট থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা খাস আদায় হবে। বাকি ছয় হাট থেকে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার মত খাস আদায় করবে ডিএসসিসি।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী নতুন সময়কে বলেন, ইজারার মাধ্যমে ৯টি হাট দেয়া হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে এলাকাবাসী আবেদন করেছেন। শনিবার এমন ৬টি চূড়ান্ত করেছেলিাম। আজ (সোমবার) আরও একটি হাট খাস আদায়ের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দরপত্র ছাড়া কেন হাট বরাদ্দ দিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ হাটগুলো না বসালে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে কোরবানির পশু সংগ্রহ করেত দূর-দূরান্তে যেতে হতো। এতে নগরবাসীকে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হতো। এছাড়া আমাদের কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হতো না। এ হাট থেকে প্রাপ্ত আয় ডিএসসিসির জনগণের জন্য ব্যয় হবে।

খাস আদায়ের মাধ্যমে দেয়া ডিএসসিসির হাটগুলো হলো লালবাগ বেড়িবাঁধ ও রাজনারায়ণ খালি জায়গা, বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ঢাকা হাউড মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা, সামসাবাদ মাঠ সংলগ্ন আশপাশের জায়গা, কাউয়ারটেক মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা, পোস্তগোলা শিল্প অঞ্চলের খালি জায়গা, গোলাপবাগ মাঠ ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন মাঠের কিছু দূরের জায়গা। যেটি ইজারা পেয়েছে লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাব।

দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেয়া হাটগুলো হলো মেরাদিয়া বাজার হাট, উত্তর শাজাহানপুরের খিলগাঁও রেলগেট সংলগ্ন মৈত্রীসংঘের মাঠের হাট, হাজারীবাগের হাট, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠের হাট, কামরাঙ্গীরচর চেয়ারম্যান বাড়ির হাট, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পাশের হাট, শ্যামপুর বালুর মাঠের হাট, দনিয়া কলেজ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গার হাট ও ধুপখোলার ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠের।

ডিএনসিসি এলাকায় ৭টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী হাট বসেছে। সাতটি হাট ১০ কোটি ৮০ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। গাবতলীর স্থায়ী হাটটি চলতি বছরের প্রথমে ১৪ কোটির বেশি টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছিল।

ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম নতুন সময়কে বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হাট থেকে ১৯ কোটি টাকা কিছু বেশি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আমরা সাতটি হাট থেকে ১০ কোটি টাকা রাজস্ব পাবো। গাবতলীর হাট থেকেও আমরা কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় করেছি। সব মিলিয়ে আমরা আমাদেও রাজস্ব আদায়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে অবৈধ কোনো হাট নেই। হাটগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার ব্যবস্থা হয়েছে।

ডিএনসিসিতে বসা সাতটি হাট হলো- খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়ক সংলগ্ন হাট, আফতাবনগর হাট, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর গোলচত্বর সংলগ্ন খালি জায়গার হাট, ভাটারা সাঈদনগর হাট, বসিলা পুলিশ লাইন্সের জায়গার হাট, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গার হাট ও মিরপুরের ডিওএইচএস সংলগ্ন উত্তর পাশের খালি জায়গার হাট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares