রাজনৈতিক প্রভাবে পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা: ড. কামাল

রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, সড়কে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এটা সুশাসনের ঘাটতি। আর সুশাসনের জন্য দরকার আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের উদ্যোগে সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ করা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ড.কামাল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পাঠ করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মে. জে. (অব.) আ ম সা আমিন। তিনি নিরাপদ সড়কের দাবিতে দলের ১৪ দফা দাবি তুলে ধরেন।

ড. কামাল বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য শুধু দুর্নীতির প্রসারই পায় না, আইন মানার ব্যাপারে যে দায়িত্ববোধ থাকার কথা, সেটাও থাকে না। এর ফলে আইনের শাসনও থাকে না। এটা অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন সত্য, পরিবহনের ক্ষেত্রেও সত্য। মূলত এটা সুশাসনের ঘাটতি। এই সুশাসনের জন্য দরকার আইনের নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রয়োগ।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা। এই খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে যে আইন রয়েছে, তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে পুলিশ যদি অন্যভাবে প্রভাবিত হয়, তাদের কেউ দুর্বল করে ফেলে, তখন তারা আইনের শাসন থেকে সরে যায়। এতে অরাজকতা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, গাড়ি নিরাপদ না হলে সড়কে নামানো যাবে না। যারা এ আইন অমান্য করছেন, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সোচ্চার হতে হবে।

নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় ১৪ দফা দাবির সমর্থনে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে কি-না জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, এই দাবিতে আগামী ১ এপ্রিল বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবেন তারা। এর সঙ্গে গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবিও থাকবে।

গণফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- গণপরিবহন আইন যুগোপযোগী করে তার সুষ্ঠু প্রয়োগ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, দক্ষ চালক তৈরি করা ও অদক্ষ চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, চালক-শ্রমিকদের মজুরি অথবা পারিশ্রমিক, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা ও যাত্রাপথে বিশ্রামের ব্যবস্থা করা, সড়ক দুর্ঘটনায় দোষী চালক ও মালিকদের সাজা নিশ্চিত করা, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি রাস্তা থেকে প্রত্যাহার করা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, সড়ক-মহাসড়কের পাশে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ফুট ওভারব্রিজ ও স্পিডব্রেকার তৈরি করা, শহরের মধ্যে থাকা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের সামনে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভুয়া ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালু রাখা, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রেগুলেটরি বডি নিয়ন্ত্রিত সরকারি ফান্ড গঠন, পরিবহন কৌশল ও সড়ক সেতু নির্মাণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ ইত্যাদি।

আ ম সা আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে তাদের দাবিতেও পরিবহন খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে। এর জন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে, বিশেষ করে শাসক দলকে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে সড়ক নির্মাণ-মেরামত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে, কোনো কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীকে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে, কোনো বিআরটিএর কর্মকর্তাকে, বাস মালিক সমিতির কোনো সদস্যকে, মোটর শ্রমিক নেতাদের কোনো অপরাধে সামান্যতম ছাড় না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকবে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বিকল্প হিসেবে রেল ও নৌপথের সংস্কার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, মহসিন রশিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক আহমেদ প্রমুখ।