রোজ ডিম খেলে কি সমস্যা হবে?

চিকিৎসকরা ডিম খাওয়ার বিষয়ে নানা সময়েই একাধিক বাধা নিষেধ আরোপ করে থাকেন। বলা হয়, যাদের একটু বয়স বেশি, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল অথবা হৃদরোগের ঝুঁকি আছে তাদের ডিম কম খাওয়া উচিত। আর ডিমের হলুদ অংশ তো একেবারেই মানা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিম, চিংড়িমাছ এবং অন্যান্য এনিমেল ফুডে রক্তের কোলেস্টেরলের ওপর সামান্যই বা মার্জিত মাত্রায় প্রভাব রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এখন ডিমকে বাদের তালিকায় রাখতে চাইছেন না। কারণ একটি ডিমে রয়েছে মাত্র ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল।

 

আমেরিকান ফেডারেল গভর্নমেন্ট দেশের নাগরিকদের যে খাদ্যভ্যাস রাখতে বলেছেন, তাতে বলা হয়েছে, ডিমের সাদা অংশ খেলে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে না।

অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা : না খাওয়া রোগ

ডা: মিজানুর রহমান কল্লোল
এ ব্যাপারে হারভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর পুষ্টি ও এপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক অথার ড. ফ্রাংক হু উল্লেখ করেছেন, খাবার থেকে যে কোলেস্টেরল আসে অর্থাৎ ডায়েটরি কোলেস্টেরল তা কিছুটা ক্ষতিকর। কিন্তু কোলেস্টেরলে যে প্রোটিন, ভিটামিন বি ১২, রাইবোফ্লভিন, ফলেট ও ভিটামিন ডি রয়েছে, তা এসব কোলেস্টেরল বৃদ্ধির প্রভাবকে কমিয়ে দেয়। ডিম ক্ষতিকর প্রসেসড মিট বা প্রক্রিয়াজাত গোশতের ভালো বিকল্প হতে পারে। সকালের খাবারে একটি ডিম কোলেস্টেরল প্রোফাইলের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না।

 

এটা এমন একটি অবস্থা যে ক্ষেত্রে রোগী নিজের ইচ্ছায় অভুক্ত থাকে এবং এর ফলে তার ওজন মারাত্মকভাবে কমে যায়। যৌবনে পদার্পণোদ্যত এবং বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এটা বেশি ঘটতে দেখা যায়। মূলত চিকন হওয়ার প্রবণতা থেকে বা স্লিম ফিগার লাভের আশায় খাদ্য গ্রহণের প্রতি অনীহা বা ভীতি জন্ম নেয়।

কিছু মেয়ের মোটা হওয়ার ইতিহাস থাকে- কিন্তু তার স্থূলতা নিয়ে অন্যদের পরিহাসের কারণে সে খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেয় এবং খাবারের প্রতি তার অনীহা তৈরি হয়। অনেকে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করে, খাবার পরে গোপনে মুখের মধ্যে আঙুুল দিয়ে বমি করে কিংবা ল্যাক্সোটিভ বা জোলাপ ব্যবহার করে ওজন কমানোর চেষ্টা করে।

এসব রোগীর শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। রক্তচাপ কমে যায়, নাড়ির গতি কমে যায় এবং রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার ফলে ত্বক নীলাভ দেখা যায়।

যে সব লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয়
• সম্পূর্ণ শারীরিক ওজনের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ ওজন কম থাকে। অর্থাৎ, বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী রোগীর কাক্সিক্ষত ওজনের ২৫ শতাংশ ওজন কম থাকে।
• উচ্চ ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার পরিহার।
• শারীরিক প্রতিকৃতির বিকৃতি। ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকার পরও নিজেদের শরীরের মেদ পরীক্ষা করে দেখে, অর্থাৎ সবসময় রোগীর ওজন বাড়ার ভয় লেগেই থাকে।
• কমপক্ষে তিন মাস মাসিক বন্ধ থাকে।

চিকিৎসা ব্যবস্থা
প্রথম লক্ষ্যই থাকবে রোগীর ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরিয়ে আনা। আর এ জন্য রোগীর সাথে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে রোগীর ওজন বাড়ানোর ব্যাপারে। এ ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপির বিশেষ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। প্রয়োজন রোগীর আবহাওয়া ও পরিবেশ পরিবর্তন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares