রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসায় মুন

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে সফররত জাতীসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা সি হেইন।

আজ বুধবার (১০ জুলাই) বিকেলে হেলিকপ্টারে করে তারা উখিয়ার কুতুপালং ১৭ নম্বর শরণার্থী শিবিরে পৌঁছান। এ সময় কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন তাদের অভ্যর্থনা জানান।

জানা গেছে, হেলিকপ্টারে করে বিকেল সোয়া চারটার দিকে তারা উখিয়ার ক্যাম্প-২০ এর এক্সটেনশনের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। সেখান থেকে তারা ১৭ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন অফিসে (আরসি) যান। সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুঃখ দুর্দশার বর্ণনা শোনেন।

এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একেএম আব্দুল মোমেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামাল, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন ও পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, বান কি মুন অনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি। তবে তিনি মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। মিয়ানমার নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরতে না পেরে তাদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা ভালোবোধ করছে না। মিয়ানমারের উচিৎ এদের ফিরিয়ে নেওয়া।

বাংলাদেশে জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতির ভূয়সী প্রশংসা করে মুন বলেন, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ লাখ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি, আর ২০১৯ সালের ফণী-তে মাত্র দু’একজন, যা বড় ধরনের ব্যবধান লক্ষ্যণীয়। জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের এ অভিজ্ঞতা সারা বিশ্ব কাজে লাগাতে পারে।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপ্টেশন’-এ যোগ দিতে দুই দিনের সফরে সোমবার (০৯ জুলাই) বাংলাদেশে আসেন জাতীসংঘের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান বান কি মুন। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসেন মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা সি হেইন ও বিশ্ব ব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিওভা।