রোহিঙ্গাদের স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চায় ডেনমার্ক

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় ওই বৈঠক হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ডেনিশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা বা স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ সংক্রান্ত সমঝোতার আওতায় এটিই ছিল প্রথম আলোচনা বা সংলাপ।

মঙ্গলবার সকালে বৈঠকের আগে আগে এ সমঝোতা সই হয়। রাতে মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ অনুবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশ ঘনিষ্টভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে উভয়ের স্বার্থে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিষয়াদি নিয়ে কাজ করা।

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান রোহিঙ্গা আশ্রিত কক্সবাজারের স্থানীয় লোকজনের উন্নয়নে ডেনমার্কের সহায়তা বিষয়ক একটি রাজনৈতিক ঘোষনাও সই হয়। দ্রুত এবং আচমকা রোহিঙ্গা ঢল নামা ওই এলাকা বারবার বন্যা আক্রান্ত হয়। সেখানে মৌসুমী সাইক্লোন লেগেই থামে। যা স্থানীয় লোকজনের জীবনযাত্রায় মারত্মক চাপ তৈরি করে। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ডেনমার্ক সরকার কক্সবাজারের স্থানীয় লোকজনের জীবনমান উন্নয়নে অতিরিক্ত ৫.২ মিলিয়ন ডলারে সহায়তার অঙ্গীকার করেছে।

বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং মানবাধিকার বিষয়ক চলমান সহায়তার বাইরে এ সহায়তা দেবে। বৈঠকে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় নেয়ার জন্য বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে ডেনিশ প্রতিনিধি দল মানবিক এ সঙ্কট মোকাবিলায় সব ধরনের সহায়তার অঙ্গীকার করে। ডেনিশ সরকার এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য ১৮.৭ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা দিয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরিতে অত্যন্ত সক্রিয় এবং বাস্তচ্যুতদের জন্য সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য ডেনিশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বলেন, মানবিক এ সংকটে সহায়তা প্রদানকারীদের মধ্যে ডেনিশ সরকার সবার আগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares