লন্ডনে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষ

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে হাজার হাজার মানুষ ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। এসময় তারা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প এখানে স্বাগত নয়’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। একইসঙ্গে তারা ‘বিশ্বের ১ নাম্বার বর্ণবাদী ও একজন ‘আমেরিকান সাইকো’ লেখা প্ল্যাকার্ডও বহন করছিল। খবর সিএনএনের।

নারীদের প্রতি ট্রাম্পের আচরণ ও বিতর্কিত নীতি করে মুসলিম ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন সীমান্তে অভিবাসীদের শিশুদের বাবা-মা থেকে আলাদা করার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ করছেন। এই বিক্ষোভের আয়োজকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় লন্ডনে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। কতজন বিক্ষোভকারী প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছে সেটি নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে তারা বলছে যে, অতিরিক্ত লোকসমাগম হওয়ায় তারা ট্রাফালগার স্কয়ার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

একটি বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিল ওমেন’স মার্চ লন্ডন। এই সংস্থাটি ২০১৭ সালে ট্রাম্পবিরোধী গণসমাবেশ আয়োজন করেছিল।

অ্যালিস স্টেভেনসন নামের ২৪ বছর বয়সী একজন নারী বলেন, আমরা ট্রাম্পকে জানাতে চাই যে আমরা যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র যুক্তরাজ্য তার নীতির সঙ্গে একমত নয়। ট্রাম্পের নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে যারা নেতিবাচকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

সাউথহল ব্ল্যাক সিস্টার্স সংগঠনের মীনা পাটেল ও শাকিলা মান বলছিলেন তারা ট্রাম্পের শিশুদের বাবা-মা থেকে আলাদা করার নীতির বিরোধী। আমাকে দেখতে কী অবৈধ মনে হয়? এমন স্লোগান লেখা টি-শার্ট পরে মীনা বলেন, শিশুদের বাবা-মার কাছ থেকে আলাদা করে দেয়ার ট্রাম্পের নীতির নাৎসি জার্মানির সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে।

৬৫ বছর বয়সী জন ম্যালোন ব্রিস্টলের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি এই বিক্ষোভে যোগ দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, আমি এখানে কারণ আমি মনে করি ডোনাল্ড ট্রাম্প আজকের বিশ্বের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক শক্তি। এর আগে তিনি সবশেষ ইরাক যুদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছিলেন। কিন্তু ম্যালোন বলেন, এরপর ট্রাম্প ছাড়া আরও কিছুই আমাকে কোনও বিক্ষোভে যোগ দিতে এতোটা নাড়া দিতে পারেনি।

লন্ডনে একইসঙ্গে ট্রাম্পবিরোধী দুটি বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একটি পার্লামেন্ট স্কয়ারের সামনে আরেকটি ট্রাফালগার স্কয়ারের সামনে। এর আগে শুক্রবার সকালে বিক্ষোভকারীরা হাউজের অব পার্লামেন্টের ওপর ‘ট্রাম্প বেবি’ উড়িয়ে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *