লবিস্ট নিয়োগ করে লাভ হবে না: ওবায়দুল কাদের

আাওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উপর বিএনপি চাপ প্রয়োগ করতে চাচ্ছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৩০ লাখ মার্কিন ডলারে যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি প্রতিষ্ঠানকে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বিএনপি। কিন্তু এতে কোন লাভ হবে না। বাইরের কোনো চাপের কাছে সরকার ও জনগণ নতি স্বীকার করবে না। বাংলাদেশ কি যুদ্ধবিধস্ত দেশ? এটা কি পাকিস্তান, সিরিয়া, সোমালিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেন হয়ে গেছে যে, লবিস্ট নিয়োগ করতে হবে?
শুক্রবার সকালে আনোয়ার খান মর্ডান মেডিক্যাল কলেজ (একেএমএমসি) দিবস-২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। কলেজের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ধানমন্ডিতে নিজস্ব ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে বাংলাদেশের সামগ্রিক বিষয় অবহিত করতে বিএনপি ওয়াশিংটনে একটি ‘লবিস্ট ফার্ম’ ভাড়া করেছে বলে বৃহস্পতিবার খবর প্রকাশ করেছে রাজনীতি বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘পলিটিকো’।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের চুক্তি অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া ‘ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিক’কে আগস্ট মাসে ২০ হাজার ডলার এবং বছরের বাকি মাসগুলোয় ৩৫ হাজার ডলার করে দিতে হবে। বিএনপি এতো টাকা কোথায় থেকে পেলো? এতো টাকা লন্ডন থেকে এসেছে। লন্ডন মানে আপনারা বুঝতেই পারছেন ওখানে কে থাকে। ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেওয়া এই ছাত্তার কে?’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শেকড় দুর্বল নয়। আমাদের শেকড় বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের অনেক গভীরে। আমাদের গণভিত অনেক শক্তিশালী। চাইলেই আমাদের মাটি চাপা দেওয়া যাবে না। দেশের জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। তাই আমাদেরকে চাপ দিয়ে কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশের জনগণ এসব চাপ মানবে না।’
তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব গেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে দেখা করতে। কিন্তু আমার জানা মতে জাতিসংঘ মহাসচিব এখন ঘানায় অবস্থান করছেন। জানি না তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন কিনা! যদি নাই পারেন, তাহলে এত টাকা খরচ করে লবিং করে জাতিসংঘে গিয়ে লাভটা হলো কি? আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। তারা হয়তো জাতিসংঘের তৃতীয় কি চতুর্থ শ্রেণির কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ নিয়ে মন্তব্য না করাই ভালো।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এখন অভিযোগের দল ও নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। তারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ করছে। জনগণের ওপর তাদের কোন আস্থা নেই। দেশেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের সমস্যা দেশেই শেষ হবে। দেশের বাইরে যাওয়ার কি কারণ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *